logo
Advertisement

রাফির মাথায় ইটের আঘাত/পুলিশ বলছে মাদক কারবারে বিরোধ, পরিবারের দাবি জমি দখলের পাঁয়তারা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
পুলিশ বলছে মাদক কারবারে বিরোধ, পরিবারের দাবি জমি দখলের পাঁয়তারা
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ২৩ নম্বর বেডে অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন রাফি। এক ইটের আঘাতে তার জীবন আজ সংকটাপন্ন। কিন্তু সেই ইটের আঘাতের নেপথ্যের কারণ আসলে কী, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে প্রশ্ন।

Advertisement

রাজধানীর কাফরুলে কিশোর রাফির ওপর ইট নিক্ষেপ করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পুলিশের তদন্তকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, স্থানীয় মাদক কারবার নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এটি মূলত দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের অংশ এবং হামলার নেপথ্যের প্রকৃত পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা হচ্ছে।

শুক্রবার (১২ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, গত ১০ জুন রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে কাফরুল থানার পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে রাফির ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তার মাথায় ইট নিক্ষেপ করলে তিনি মোটরসাইকেলসহ সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন।

তিনি বলেন, ঘটনার পর হামলাকারীরাই আহত রাফিকে একটি অটোরিকশায় তুলে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভিতে ধারণ হয় এবং পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় রাফির চাচা নূর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চারজনকে শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ (৩০) এবং আনোয়ার হোসেন বাবুকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অপর দুই অভিযুক্ত ফয়সাল ওরফে কালু এবং আমিন এখনও পলাতক।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া পারভেজ একসময় রাফিদের বাসার ভাড়াটিয়া ছিলেন। পরে তিনি ও তার সহযোগীরা এলাকায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে রাফির সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঘটনার আগের দিন তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরদিন রাতেই হামলা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে স্থানীয়দের বলা হয়, ওপর থেকে ইট পড়ে রাফি আহত হয়েছেন।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় ভুক্তভোগী পরিবার। রাফির চাচা নূর হোসেন দাবি করেন, তাদের সঙ্গে চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধ রয়েছে। এর আগে জমি দখল, ভাঙচুর, হামলা ও হুমকির ঘটনায় একাধিক মামলা করা হলেও সেসব অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় চাচাতো ভাই ইসমাইল ও আক্তারের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন জানানো হলেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

রাফির ফুপু ইতি বলেন, হামলার আগেই মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রাফি একাধিকবার তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এ মর্মে ইতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগের কয়েক দিনের মধ্যেই রাফির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তার ভাষ্য, সরাসরি হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হলেও তাদের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী মহল ছিল কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।

পরিবারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে হামলার পেছনে শুধু মাদক কারবারসংক্রান্ত বিরোধকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অথচ দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা এবং আগের মামলাগুলোর বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি প্রাথমিক তদন্তের তথ্য। তদন্ত এখনও চলমান এবং প্রয়োজনীয় সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মামলার বাদি যদি বলেন, এই মামলার তদন্তর জন্য আরও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে, তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

এদিকে গুরুতর আহত রাফি এখনও চিকিৎসাধীন। ঘটনার আসল রহস্য উদ্‌ঘাটনের বিষয়ে তার বক্তব্য জরুরি হয়ে গেছে। তার ফুপু ইতি বলেন, পরিবারের আশা, সে সুস্থ হলে হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।