রাজধানীর যেসব মোড়ে এআই মামলা বেশি, কোন যানের কত জরিমানা

রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ ক্যামেরার পরীক্ষামূলক ব্যবহারে বড় সাফল্য দেখছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। গত ৭ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মোট ৬৮৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।
চলতি সময় পর্যন্ত এই প্রযুক্তির সহায়তায় ট্রাফিক বিভাগ ২৯ লাখ টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করেছে। তবে নগরবাসীকে নতুন এই ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে জরিমানার পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে আপাতত নমনীয় অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
যেখানে মামলা সবচেয়ে বেশি
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে চারটি মোড়ে। এরমধ্যে রয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় (শীর্ষে), জাহাঙ্গীরগেট, বিজয় সরণি ও বাংলামোটর মোড়।
কোন অপরাধে কত মামলা?
মোট মামলার প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে সড়কে যানবাহন থামিয়ে প্রতিবন্ধকতা বা যানজট সৃষ্টি করার অভিযোগে। ২০ শতাংশ মামলা হয়েছে বাঁ লেন দখল করে রাখার কারণে। আর বাকি ১০ শতাংশ মামলা হয়েছে উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও সিগন্যাল অমান্য করার মতো অপরাধে।
বাহনভিত্তিক মামলার চিত্র
পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের প্রথম ২৫ দিনে (৭ মে - ১ জুন) ৬৮৯টি মামলার বাহনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাস ৩১২টি (সর্বোচ্চ), ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) ১৫০টি, অন্যান্য (মোটরসাইকেল, পিকআপ, লেগুনা ও সিএনজি) ২২৭টি।
অপরাধ ও জরিমানার তালিকা
এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইনের ৭টি ধারা ও ৪টি উপধারায় জরিমানা করা হচ্ছে। জরিমানা সহজে বোঝার জন্য যানবাহনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে— বড় গাড়ি (বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি, লেগুনা) এবং ছোট গাড়ি (মোটরসাইকেল ও সিএনজি)।
নিচে প্রথমবার অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার হার ছক আকারে দেওয়া হলো:
| অপরাধের ধরন | বড় গাড়ির জরিমানা | ছোট গাড়ির জরিমানা |
|---|---|---|
| ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা বা মেয়াদ না থাকা। | ৫,০০০ টাকা | ৪,০০০ টাকা |
| ফিটনেস না থাকা, অনুমতি ছাড়া রং পরিবর্তন। | ১০,০০০ টাকা | ৩,০০০ টাকা |
| রেজিস্ট্রেশন না থাকা বা নম্বরপ্লেট ব্যবহার না করা। | ১০,০০০ টাকা | ১০,০০০ টাকা |
| বেপরোয়া গতি, বাঁ লেন বন্ধ করা, ইন্ডিকেটর বাতি না থাকা, ভাঙা কাচ ব্যবহার বা ইজিবাইক চালানো। | ২,৫০০ টাকা | ২,৫০০ টাকা |
| যানজট সৃষ্টি, উল্টো পথ, হেলমেট না পরা, চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তোলা, ফোনে কথা বলা, সিটবেল্ট না বাঁধা, ফুটপাতে গাড়ি চালানো ও সিগন্যাল অমান্য। | ৩,০০০ টাকা | ১,০০০ টাকা |
তবে একই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ হবে।
যেভাবে কাজ করছে ‘এআই ক্যামেরা’
ডিএমপি ট্রাফিকের জ্যেষ্ঠ সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ জানান, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোট ১১০টি ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরতে সক্ষম পিটিজেড (প্যান-টিল্ট-জুম) ক্যামেরা কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, এই ক্যামেরাগুলো চলন্ত গাড়ি বা ব্যক্তিকে অনুসরণ করতে পারে এবং দূর থেকে গাড়ির নম্বরপ্লেট স্পষ্ট শনাক্ত করতে পারে। সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন লঙ্ঘনকারী গাড়ির তথ্য বিআরটিএ সার্ভার থেকে সংগ্রহ করে ডিএমপির সার্ভারে পাঠায়। ডিএমপি কার্যালয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তথ্য যাচাই করে গাড়ির মালিকের নামে মামলা ইস্যু করেন এবং মামলার নোটিশ ডাকযোগে মালিকের ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
