ফুটপাতে বৃদ্ধকে মারধর, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সেই পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালের ফটকের সামনের ফুটপাতে বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনায় খালিদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। মারধরের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ধানমন্ডি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল হাইকেও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ধানমন্ডির মীনা বাজার এলাকা থেকে খালিদকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। আটক খালিদ হাসান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিকস ডিজাইনার হিসেবে কর্মরত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তাকে আটকের বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম।
এদিকে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, ধানমন্ডির সাতমসজিদ সড়কে বাংলাদেশ আই হসপিটালের বিপরীত পাশের ফুটপাতে এক ব্যক্তিকে কয়েকজন ঘিরে রেখেছেন। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়। পরে কান ধরে ওঠবস করানো হয়।
ঘটনার সময় আশপাশে বেশ কয়েকজন মানুষ জড়ো হন। তাদের কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। কাছেই কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও অবস্থান করতে দেখা যায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে শহীদ আবদুল্লাহ আল মাসুদ ওরফে মাসুদ রানা (৪৮) নামের ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। তবে শহীদ আবদুল্লাহ মানসিক রোগে আক্রান্ত।
অবশ্য ওই তরুণীর অভিযোগ, শহীদ আবদুল্লাহ তার সঙ্গে ‘ব্যাড টাচ’ করেছিলেন। বিষয়টি তিনি ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানান। তার দাবি, অভিযোগ করার পরও পুলিশ তাকে আটক করার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পরে তরুণী তার এক স্বজনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। ওই স্বজনই শহীদ আবদুল্লাহকে মারধর করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে দায়িত্ব পালন করা এএসআই আবদুল হাইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে।
