কেরানীগঞ্জের ফরহাদ হত্যা মামলার আসামি আরমান গ্রেপ্তার

রাজধানীর কেরানীগঞ্জের আরশিনগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ফরহাদ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি এবং ‘আরমান-শাহরুখ’ গ্রুপের শীর্ষ নেতৃত্বদানকারী সবুজ হোসেন আরমানকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সামুরাই উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-২ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আরশিনগর এলাকার একটি সেলুনে ঢুকে আরমানসহ কয়েকজন সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে এবং চাপাতি দিয়ে ‘পাটালী গ্রুপ’-এর ফরহাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ১৬ সেপ্টেম্বর নিহতের মা নাছিমা বেগম বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় এসআরবি-২। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার ভোররাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংস্থাটি জানতে পারে, মামলার এজাহারনামীয় ৩ নম্বর আসামি সবুজ হোসেন আরমান মোহাম্মদপুরের বুদ্ধিজীবী ১ নম্বর রোড এলাকায় অবস্থান করছেন।
পরে সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়। পরে তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও চারটি সামুরাই উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-২-এর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর আরমানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকায় রাস্তার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের অস্থায়ী টিনশেডে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, ‘আরমান-শাহরুখ’ গ্রুপের শাহরুখকেও গত ১৬ আগস্ট এসআরবি-২ গ্রেপ্তার করেছিল। গ্রেপ্তার আরমানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফরহাদ হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এসআরবি-২ আরও জানায়, গ্রেপ্তার আরমানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পুলিশের অপরাধী শনাক্তকরণ ও পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাইয়ে (পিসিপিআর) তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় দাঙ্গা, চুরি, হত্যাচেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার করেছিল বলে জানানো হয়েছে।
গত এক বছরে চাঞ্চল্যকর এলেক্স ইমন, মুন্না, নাসির ও ফরহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গেও আরমানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে এসআরবি-২।
