logo

শাহজাহানপুরে গলা কেটে হত্যায় বোন-ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার

শাহজাহানপুরে গলা কেটে হত্যায় বোন-ভগ্নিপতি গ্রেপ্তার
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

রাজধানীর শাহজাহানপুরে মোহাম্মদ ফকরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তার বড় বোন ও ভগ্নিপতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাটি, ঘটনার সময় ব্যবহৃত লাল রঙের হেলমেট ও পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজন (৫৮) এবং বড় বোন নুর আফসানা নিপা (৪৫)। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শনিবার ডিএমপির মতিঝিল বিভাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টার মধ্যে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানার উত্তর শাহজাহানপুর এলাকার ৪৭৬/বি নম্বর বাসার পঞ্চম তলায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত ফকরুল হাসান ফরহাদ ওই বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় ছিলেন।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাসাটিতে বসবাস, দখল এবং গ্যাস-পানির বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিহতের বড় বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে তার আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। তাকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

ঘটনার দিন নিহতের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শম্পা প্রতিদিনের মতো সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্মস্থলে চলে যান। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি খাটের ওপর স্বামীর গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে খবর পেয়ে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সিআইডির সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণে মাথায় লাল রঙের হেলমেট পরা এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলসংলগ্ন এলাকা দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্যের মাধ্যমে ওই ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার তোপখানা রোডে একটি অফিস থেকে নিহতের ভগ্নিপতি আব্দুস সামাদ সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি লাল রঙের হেলমেট, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় পরিহিত পোশাক উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা পোশাকটি ধোয়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। পোশাকসহ উদ্ধারকৃত অন্যান্য আলামত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। ঘটনাস্থল থেকেও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও জব্দ করা হয়েছে।

পরে এ ঘটনায় নিহতের বড় বোন নুর আফসানা নিপাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বাসায় বসবাস, দখল ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ, হত্যার পরিকল্পনা, প্রত্যেক আসামির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এবং হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহজাহানপুর থানার মামলা নং-৬, তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২৬, দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার শম্পা।

পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আসামিদের গতিবিধি, উদ্ধার করা অস্ত্র ও পোশাকসহ অন্যান্য বস্তুগত ও প্রযুক্তিগত আলামত সমন্বয় করে তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।