বাস্তুহারা বৃদ্ধার প্রশ্নে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘সরি’

বয়সের ভারে ন্যূজ মাছুরা বেগম। প্রায় এক যুগ ধরে থাকছেন রাজধানীর উত্তরায়। এখানে নিজের মালিকানার ভূমিতে নেই তার ঠিকানা। যেখানে তার থাকার জায়গা, তা সরকারি হিসেবে চিহ্নিত। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন জায়গাটিতে থাকা স্থাপনা গুড়িয়ে দিয়েছে।
গুড়িয়ে দেওয়া স্থাপনার মধ্যে ছিল বৃদ্ধা মাছুরা বেগমের বসতি। নিজেকে ৯৫ বছর বয়সী দাবি করা বৃদ্ধাকে তখন দেখা যায় আহাজারি করতে। বাস্তুহারা হয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
বৃদ্ধা জানতে চান–‘আমি থাকমু কই, খামু কি?’ জবাবে ‘সরি, ক্ষমা করে দিবেন’ বলে নিশ্চুপ ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
ঘটনাটি উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর সড়কের ১৭/বি নম্বর প্লটের সামনে ঘটে। এর আগে ওই জায়গায়টি সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে রাজউক।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান। এ সময় রাজউকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ওই প্লটের তুরাগের ৫৪ নং ওয়ার্ডের দুটি বিএনপির কার্যালয়, বসত-ঘর, টেইলার্সের ট্রেনিং সেন্টার, সিলিন্ডার গ্যাসের গোডাউন, ভাঙারির দোকানসহ প্রায় অর্ধশত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এ সময় এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা হয় বৃদ্ধা মাছুরা বেগমের। তিনি বলেন, ‘দোকানডা ভাইঙ্গা ফালাইছে। আমি এনেই রইছি। এনেই খাইছি। আমার দুনিয়াতে কেউ নাই।’
তিনি বলেন, ‘১২ বছর ধইরা এনেই দোহান করি। এনেই থাহি। অহন আমি কি কইরা খামু? কি কইরা চলুম। কি কইরা কি করুম? আমি একলাই দোকান করতাম। একলাই থাকতাম।’
মাছুরা বেগম বলেন, ‘আমার একটা পুত আছিল। মইরা গেছে। এহন কেউ নাই। আমার তো কোন পথ নাই। বাবা তোমরা পথ কইরা দিবা।’
তিনি বলেন, ‘দোকান কইর্যাই তো খাইয়া বইয়্যা থামতাম। এখন তো কাম করতারি না। আগে তো কাম কইর্যা খাইতাম। এখন তো কোন করতে পারতাম না।’
রাউজকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা রাজউকের জায়গা। আমরা দখলমুক্ত করেছি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমরা ডিমারগেশন করে খুঁটি দিয়ে জায়গাগুলো আলাদা করে স্টেট শাখাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। যাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে লিজ দেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলেছি।
