নিখোঁজের দুই দিন পর বালুর মাঠে মিলল যুবকের গলাকাটা লাশ

রাজধানীর উত্তরখানে নিখোঁজের দুই দিন পর বালুর মাঠে গলা ও হাত কাটা যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ওই যুবকের নাম মো. সুমন ওরফে সোহাগ (৪০) বেপারী।
উত্তরখান মুন্ডা লালবাগের ইউকে গার্ডেন বালুর মাঠ থেকে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মরদেহটি দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ওই যুবক হলেন নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার পাছাহাট গ্রামের মৃত সোনা মিয়া ওরফে সনু বেপারীর ছেলে সুমন ওরফে সোহাগ। বর্তমানে তিনি উত্তরখান মুন্ডার হাজি লিটন মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
নিহত ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধারকালে তার গলা কাটা, বাম হাতে গুরুতর কাটাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়া জখমের আঘাত পাওয়া যায়।
এলাকাবাসী জানায়, বালুর মাঠে কলাপাতা ঢাকা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটির গলা ও বাঁ হাত কাটা ছিল। এ ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ছেঁড়া জখম ছিল।
ঘটনাস্থলে থাকে উত্তরখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাঈদ মিয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিল সোহাগ। পরবর্তীতে তার পরিবারের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে উত্তরখান থানায় একটি নিখোঁজ জিডি করা হয়। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তার মরদেহটি মুন্ডা বালুর মাঠ থেকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, মরদেহটির গলাকাটা ও বাম হাতে গুরুতর কাটা জখম পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে হত্যার পর লাশটি কলাপাতায় ঢেকে বালুর মাঠে ফেলে যাওয়া হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, নিখোঁজের দুই দিন পর আমরা সোহাগ নামের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছি। কে বা কারা খুন করেছে তা এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান ওসি।
এক প্রশ্নের জবাবে ওসি হাবিব বলেন, কারও সঙ্গে পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে থানা পুলিশের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, খুন হওয়া ওই যুবক কিছুদিন পূর্বে উত্তরখান থানায় একটি জিডি (সাধারণ) করেছেন। তাকে কেউ হুমকি দিয়েছিল, সে বিষয়ে নিরাপত্তার জন্য জিডিটি করেছিলেন তিনি।