জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ উদ্ধার হলেও এখনো খোঁজ মেলেনি ক্যামেরার

জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের হারিয়ে যাওয়া ম্যাকবুক উদ্ধার করে তার কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। তবে ক্যামেরার খোঁজ এখনো মেলেনি। এ ছাড়া পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি তার হাতে তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। একপর্যায়ে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান। ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, ল্যাপটপ ও ক্যামেরা সেখানে নেই।
পরে তিনি নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা চান। তার লিখিত অভিযোগের পর নাটোর সদর থানা, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর সদর থানার কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে ওই পর্যটকের ম্যাকবুক উদ্ধার করা হয়। তবে ক্যামেরাটি উদ্ধারের বিষয়ে প্রেস রিলিজে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপে ক্রিলের গত ছয় মাসের কার্যক্রমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন নথি ছিল। ল্যাপটপ ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, ল্যাপটপ উদ্ধারে ভূমিকা এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছেন আইজিপি।
আইজিপি সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি নাগরিকদের দ্রুত ও পেশাদার সেবা প্রদান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দেন।
