উত্তরায় শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ

রাজধানীর উত্তরায় ‘বেতন বাড়াও, বাঁচতে দাও’ স্লোগানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই পথ ধরে গন্তব্যে ফেরা মানুষেরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১১টায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরার আজমপুর ও বিএনএস সেন্টার এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে অবরোধ করেন শ্রমিকরা।
অবরোধে অংশ নিয়েছেন উত্তরা দক্ষিণখানের ভেসলিং (ইপিলিওন), ভার্সেটাইল, চৈতী গ্রুপ ও অলিও অ্যাপারেলসহ বিভিন্ন গার্মেন্টসের প্রায় আড়াই শতাধিক শ্রমিক।
শ্রমিকরা জানান, প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাড়া বাড়ছে। কিন্তু গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বাড়ছে না। অথচ সব শ্রেণি-পেশার, বিশেষ করে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ঠিকই বাড়ছে।
তারা বলেন, আমরা যে বেতনে চাকরি করি, সেই বেতনে দু বেলা দু মুঠো খেতেই হিমশিম। শখ-আহ্লাদের কথা বাদই দিলাম। চাকরি করে ভালো-মন্দ খেতেও পারি না। সন্তানদের মানুষও করতে পারি না।
গার্মেন্টস শ্রমিক আনোয়ার বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে বেতনভাতার জন্য লাগাতার আন্দোলন করছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনছে না। আমাদের আন্দোলন আমলে নিচ্ছে না। যত দিন পর্যন্ত ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করা না হবে, তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
এদিকে ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে বিএনএস সেন্টার এবং খিলক্ষেত থেকে আজমপুর পর্যন্ত সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন গন্তব্যে ফেরা মানুষেরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানহা আক্তার বলেন, ‘আমি ভার্সিটিতে যাব, ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু আন্দোলনের কারণে আটকা পড়ে রয়েছি।’
বেসরকারি চাকরীজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একই জায়গায় গাড়িতে বসে আছি প্রায় আধা ঘণ্টা হলো। শ্রমিকরাও সরছে না। গাড়ির চাকাও ঘুরছে না। কীভাবে যাব, কিছুই বুঝছি না।’
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমরা বুঝিয়ে তাদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
