logo

ধানমন্ডি ও বাড্ডায় পৃথক ঘটনায় ভবন থেকে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু

ধানমন্ডি ও বাড্ডায় পৃথক ঘটনায় ভবন থেকে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডায় পৃথক দুটি ঘটনায় বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন আসমা আক্তার (৩০) ও মনিকা আক্তার (২৭)।

শনিবার (১৩ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে তাদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৩টার দিকে ধানমন্ডির বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আটতলার ৮১৩ নম্বর কেবিনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে যান আসমা আক্তার। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

ধানমণ্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুলি মণ্ডল জানান, নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; আসমার স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

নিহতের ভাই মোজাম্মেল হক জানান, প্রায় তিন বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে মো. শাফিউল্লাহর সঙ্গে আসমার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে শাফিউল্লাহর আগের স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি আসমা জানতেন না। বিয়ের পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, পেটের ব্যথার কারণে তিন দিন আগে আসমাকে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার তার ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনার সময় কেবিনে আসমা ও তার স্বামী একসঙ্গে ছিলেন। তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন বলে পরিবারের দাবি। আসমার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি এলাকার হায়দার আলীর বাড়ি। তিনি আড়াই বছর বয়সি এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন।

অন্যদিকে, রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় একটি আটতলা ভবন থেকে পড়ে মনিকা আক্তারের মৃত্যু হয়েছে।

বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা জানান, শুক্রবার বিকেলে আফতাবনগরের ই-ব্লকের ২ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের ৩১ নম্বর ভবন থেকে নিচে পড়ে যান মনিকা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠায়।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশার কারণে মনিকা ভবন থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের বোন মমিনা জানান, মনিকা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার আগের দিন জমিজমাসংক্রান্ত কাজে তার স্বামী লিটন মিয়া গ্রামের বাড়িতে যান। লিটন মিয়া ওই ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং পরিবারসহ ভবনের নিচতলায় বসবাস করতেন।

মনিকার বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা সরকারপাড়া গ্রামে। তিনি মহির উদ্দিনের মেয়ে এবং এক সন্তানের জননী ছিলেন।