পৃথক ঘটনায় নারীসহ দুজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর ভাটারা ও চকবাজার এলাকায় পৃথক ঘটনায় এক নারীসহ দুইজনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন— ইলিয়াস মোল্লা (৩৫) ও সুমাইয়া আক্তার মিম (২৪)।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ খবর পেয়ে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাসমত আলী জানান, খবর পেয়ে ভাটারার সাঈদ নগর এলাকার একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে ইলিয়াস মোল্লার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, ইলিয়াস দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে বাবা তাকে একটি ফ্ল্যাট কিনে দেন। সেখানে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তাদের বিয়ের দুই বছর হলেও কোনো সন্তান ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
নিহতের ভাই জানান, ভাটারা ১২ নম্বর রোডের ২১৩ নম্বর বাসা তাদের। ইলিয়াস লাভলু মোল্লার ছেলে। কী কারণে তার ভাই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়।
অন্যদিকে চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুসরাত জাহান জানান, খবর পেয়ে ইসলামবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার মিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে সুমাইয়া নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতের প্রতিবেশী নূর হোসেন জানান, দেড় বছর আগে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। শুক্রবার রাতে স্বামী আবির হোসেনের সঙ্গে বাইরে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি। পরে বাসায় ফিরে স্বামী বাইরে বের হয়ে গেলে একপর্যায়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানতে পারেন তারা।
তিনি আরও জানান, সুমাইয়ার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ এলাকায়। তিনি আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। বর্তমানে চকবাজারের ইসলামবাগ ১২২/এ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় স্বামী আবির হাসানের সঙ্গে বসবাস করতেন। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে সুমাইয়া ছিলেন বড়।
