বাইকের সেই মেয়েটি সম্পর্কে যেসব তথ্য মিলল

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী মহাসড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে এক তরুণীকে অচেতন অবস্থায় বহনের একটি দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে সেই রহস্যভেদ সামনে এসেছে, সংবাদমাধ্যমে কথা বলেছেন ওই তরুণী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নিজের সুস্থতার কথা জানিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে সেই তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনার রহস্য বের করেছে কালবেলা অনলাইন। ওই তরুণী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনি এখন সুস্থ আছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যাওয়া মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া ঠিকানা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর নিয়ে নতুন রহস্য তৈরি হয়। কারণ আলোচিত সেই মোটরসাইকেলটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ল ৫১-৫৩২৪। এই রেজিস্ট্রেশনে দেওয়া দুটি মোবাইল নম্বরই ভুয়া বলে ধারণা পুলিশের।
আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। পাশাপাশি দুটি মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। এর একটির শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটি এক শোরুম মালিকের। তবে তিনি দাবি করেছেন, ওই মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার নম্বর সেখানে গেল, তা তিনি জানেন না। অন্য একটি নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, মোটরসাইকেল মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও যিনি চালকের আসনে ছিলেন তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশে ‘আলম’ আছে। বাইকে থাকা তরুণীর বড়বোনের স্বামী জানিয়েছে, সে কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-বউ ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ কর চলে যায়। তারপর ওই ছেলের সঙ্গে হয়তো ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।
আলম তার স্বামী কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছেন তিনি।
ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সুস্থ আছেন জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এমনকী দেখা করে বিস্তারিত জানাতে চেয়েছেন।
তার বড় বোনের স্বামী দাবি করেন, বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু মেয়েটিকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় আসার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর ফিরে যান। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তাকে রেখে বোনকে ফোন দেন আলম।
সূত্র: কালবেলা



