বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে দেশব্যাপী এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক শুরু

দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে ‘এভিয়েশন সিকিউরিটি উইক–২০২৬’ শুরু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থেকে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের সব অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন ইউনিভার্সাল সিকিউরিটি অডিট প্রোগ্রাম-কন্টিনিউয়াস মনিটরিং অ্যাপ্রোচ (ইউএসএপি-সিএমএ) অডিট সামনে রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বেবিচক।
এবারের কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ‘Security is Everyone’s Responsibility: See Something, Say Something’। অর্থাৎ, নিরাপত্তা সবার দায়িত্ব-সন্দেহজনক কিছু দেখলে জানান। এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তাকর্মীদের পাশাপাশি যাত্রী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কর্মসূচির আওতায় বিমানবন্দরের কর্মী ও যাত্রীদের নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়মকানুন এবং নির্ধারিত প্রটোকল সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক বস্তু, অস্বাভাবিক কার্যকলাপ ও সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি শনাক্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ে বিভিন্ন অনুশীলন ও ড্রিল পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্মত অনুশীলন অনুসরণে ব্রিফিং ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, এভিয়েশন সিকিউরিটি উইকের মূল উদ্দেশ্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত দায়িত্ববোধ জোরদার করা। প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকলে বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা-ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীদের সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বেবিচকের আশা, এ কর্মসূচি বিমানবন্দরগুলোর দৈনন্দিন নিরাপত্তা কার্যক্রম উন্নত করার পাশাপাশি আসন্ন আইকাও অডিটের প্রস্তুতি জোরদার করবে। একই সঙ্গে দেশের এভিয়েশন নিরাপত্তাব্যবস্থার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেও উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে।
