সাড়ে ৯ মাসে ২০৮৬ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য উদ্ধার করেছে বিজিবি

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী পরিচালিত অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসব চালানের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনী সামগ্রী।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিজিবির পরিচালক (অপারেশনস) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান।
তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ২ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ (আইস), প্রায় ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় ১ লাখ বোতল বিদেশি মদ।
অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানেও বড় ধরনের সাফল্য পাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, এ সময় ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করে আইনি ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির অপরাধবিরোধী এসব অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজায় ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদরের কাছে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম অঞ্চলে ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে।
সুরক্ষা কার্যক্রম সহজ করতে দুর্গম এলাকাগুলোতে ২১টি বিশেষ বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সমন্বয়ের জন্য ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ্লিকেশন’ ও বিশেষ মনিটরিং সেল ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত গুজব বা অপপ্রচার রোধেও বিজিবির নজরদারি রয়েছে।
