মেট্রো না চললেও রাতভর আলো জ্বলে স্টেশনে

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাপে আছে বাংলাদেশও। পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃচ্ছ্রসাধনে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু সরকারের সাশ্রয়ী উদ্যোগের উল্টোচিত্র দেখা যাচ্ছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) আওতায় পরিচালিত রাজধানীর মেট্রোরেল স্টেশনগুলোতে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়সূচির আগে ও পরে ট্রেন না চললেও মেট্রো স্টেশনগুলোতে রাতভর জ্বলে বৈদ্যুতিক আলো। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, বিগত এক মাসে ২৮ লাখ টাকার সমপরিমাণ ইউটিলিটি সাশ্রয় করেছে তারা।
২০ দশমিক ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রো লাইনে স্টেশন রয়েছে ১৬টি। প্রতি কর্মদিবসে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত মেট্রোরেল যাত্রী পরিবহন করে। সেই হিসেবে রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে স্টেশনগুলো যাত্রীশূন্য হয়ে যায়। এরপর রাতভর আলো জ্বলতে দেখা গেছে বিভিন্ন স্টেশনে।
সম্প্রতি মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মিরপুর-১১ নম্বর স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম অংশে রাত ১২টা ৫ মিনিটেও আলো জ্বলতে দেখা যায়। স্টেশনের পাশের একটি বহুতল ভবন থেকে প্ল্যাটফর্মের বিভিন্ন ডিভাইস যেমন—ইলেকট্রিক ঘড়ি সচল থাকতে দেখা গেছে। কনকোর্স অংশ, অর্থাৎ যেখান থেকে যাত্রীদের টিকিট কেনা, রিচার্জ করা ও কার্ড ট্যাপ করে প্রবেশ করেন, সেই অংশেও আলো জ্বলতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া মূল সড়ক থেকে স্টেশনে প্রবেশের অন্তত চারটি মুখ ও সড়কের উভয়পাশের দুটি করে সাধারণ এবং চলন্ত সিঁড়ির পুরো অংশসহ দুটি লিফটের সামনের বাতিগুলোও জ্বলতে দেখা যায়। অথচ সে সময় লিফট ও সিঁড়ির প্রবেশপথগুলো বন্ধ করে তালাবদ্ধ ছিল। নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী, কনকোর্স অংশের প্রবেশপথও সে সময় বন্ধ থাকার কথা।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর সুযোগ যেখানে ছিল, সেখানে ইতোমধ্যে কমানো হয়েছে। ২৮ লাখ টাকা (সমমূল্যের ইউটিলিটি কম ব্যবহৃত হয়েছে) ইতোমধ্যে সাশ্রয় করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মন্ত্রণালয় থেকেও চিঠি দিয়েছে। আমরা নিজেদের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে চারটি ভিজিলেন্স টিম ও একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা দেখছে কোথায় কোথায় আরও সাশ্রয় করা যায়। আর যেগুলো দেখেছেন, সেগুলো নিরাপত্তার কারণে রাখতে হবে।
সিঁড়ি এবং মানুষ থাকে না—এমন জায়গায় আলো জ্বলতে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, কিছু জায়গায় অন্ধকার রাখলে বহিরাগতরা এসে গাজা খায়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, জ্বালানি সঞ্চয়ের জন্য আমাদেরকে অনুশীলনে আসতে হবে। শপিংমলসহ বিভিন্ন জায়গায় আলোকসজ্জার যে প্রচলন, সেখানে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা এখনও সেই পরিবর্তন করিনি।
তিনি বলেন, স্কুল ও অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকার যেসব নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। শুধু মেট্রোরেল না বরং সবকিছুতেই এই পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের অনুশীলন ঠিক করতে হবে।