রণক্ষেত্র উত্তরা, শপিং কমপ্লেক্স ভাঙচুর

রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহ গুম করার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন রিকশা ও অটোরিকশা চালকেরা। এ সময় উত্তরা স্কয়ার মার্কেট ঘেরাও করে ভাঙচুর চালানো হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা ভোর ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে। এ সময় মার্কেটের সামনে সড়ক অবরোধ করে প্রায় এক হাজারের বেশি রিকশাচালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরীদের সঙ্গে রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে এক রিকশাচালকের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনার খবর দ্রুত অন্যান্য রিকশাচালকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা উত্তেজিত হয়ে মার্কেটের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সড়ক অবরোধ করেন এবং মার্কেটের কিছু অংশে ভাঙচুর চালান।
রিকশাচালক জামাল অভিযোগ করেন, ওই রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার পর তার মরদেহ ভবনের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে উপস্থিত জনতা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে কয়েক দফায় রিকশাচালকদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনা ভোর ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার ওয়াহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, একজন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হলেও তার নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি। কেউ নিহত হয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত হতে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী মার্কেটের ভেতরে তল্লাশি চালিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনাস্থলে প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।