Advertisement

চার্জশিটেও মিলছে না বিচার, ফিমা হত্যা মামলার আসামি এখনও অধরা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
চার্জশিটেও মিলছে না বিচার, ফিমা হত্যা মামলার আসামি এখনও অধরা
ছবি: এশিয়া পোস্ট

মেয়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত এবং মামলার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে দ্রুত মামলার প্রধান আসামি কাজী সাগরকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ১৯ বছর বয়সি তাহিয়া তাসনিম ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম।

Advertisement

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

তাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশ তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দাখিল করলেও মামলার প্রধান আসামি কাজী সাগরকে এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাহিয়া তাসনিম ফিমা ও কাজী সাগরের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর কাজী সাগরের আরও একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ পান ফিমা। বিষয়টি জানার পর ফিমাকে তা মেনে নিতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

একপর্যায়ে বিষয়টি দুই পরিবারের মধ্যে জানাজানি হলে ফিমার পরিবার দাবি করেন কাজী সাগর যাতে ফিমাকে তালাক দিয়ে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। তবে এতে কাজী সাগর ও তার পরিবার রাজি হয়নি বলে দাবি ফিমার পরিবারের। পরে কাজী সাগর তার স্ত্রী ফিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডে সাগরের পরিবারের সদস্যরাও জড়িত বলে দাবি ফিমার পরিবারের।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ তাহিয়া তাসনিম ফিমাকে তার নিজ ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে ফরেনসিক প্রতিবেদনে গলা চেপে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে উঠে আসে।

পরবর্তীতে ফরেনসিক প্রতিবেদন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ২৬ জুন পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় কাজী সাগরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনে তাকে বিচারের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।

ফিমার পরিবারের অভিযোগ, চার্জশিট দাখিলের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও অভিযুক্ত কাজী সাগরকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সংবাদ সম্মেলনে ফিমার বাবা মো. তাজুল ইসলাম তিন দফা দাবি জানান।

দাবিগুলো হলো—

১. অবিলম্বে গ্রেপ্তার: চার্জশিটভুক্ত আসামি কাজী সাগরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে হবে।

২. বিচারে গতি: মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম যেন অযথা বিলম্বিত না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

৩. প্রমাণ উপস্থাপন: মামলার সব ফরেনসিক আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীদের বক্তব্য যথাযথভাবে আদালতে উপস্থাপন করে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমরা কারও কাছে বিশেষ সুবিধা চাই না, চাই আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক। কিন্তু চার্জশিটভুক্ত আসামি যদি দীর্ঘ সময় আইনের আওতার বাইরে থাকে, তবে পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়। ফিমা আর ফিরে আসবে না, কিন্তু আমরা চাই তার মৃত্যুর সঠিক বিচার হোক।