আদাবরের খালে নারীর ছয় টুকরা লাশ, তদন্তে পুলিশ

রাজধানীর আদাবরের একটি খাল থেকে খণ্ড-বিখণ্ড অবস্থায় নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের মামলা হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে আদাবর থানায় মামলাটি করা হয়। তবে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে আদাবরের ১০ নম্বর হাক্কার মোড় এলাকার খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। একটি ট্রলি ব্যাগের ভেতর থেকে মাথা ও দুই হাত এবং একটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে শরীর ও দুই পা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ছয় টুকরা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলে গিয়ে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে আঙুলের ছাপ থেকে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নিহতের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে তার তথ্য না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
পুলিশের ধারণা, অন্য কোথাও হত্যার পর লাশটি খালে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। খালে ময়লা-আবর্জনার পাশাপাশি পানির স্রোত রয়েছে। কয়েক দিন আগে অন্য কোনো জায়গায় লাশ ফেলে দেওয়া হয়ে থাকলে স্রোতে সেটি ভেসে ওই এলাকায় আসতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা বলেন, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহতের পরিচয় বা লাশের দাবিতে কেউ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ ঘটনায় আদাবর থানায় অজ্ঞাতনামা এক বা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হত্যা করে লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার মধ্যে যেকোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা করা হয়।
নিহতের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। লাশটি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহেশ চন্দ্র সিংহকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে।


