শিশু বায়জিদকে অপহরণকারী টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার

রাজধানীর রূপনগরের নিজ বাসা থেকে ছয় বছরের শিশু বায়জিদকে অপহরণের ঘটনায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মূল হোতা তহুরা বানু লিপিকে (৪৩) গ্রেপ্তার এসআরবি ও পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-৪ এর মিডিয়া অফিসার নুরাঙ্গীর নাহিদ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন খা পাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবি কর্মকর্তা নুরাঙ্গীর নাহিদ বলেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রূপনগরের দুয়ারীপাড়ার নিজ বাসা থেকে অপহরণ হয় শিশু বায়জিদ। এ ঘটনায় তার বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপনগর থানায় একটি মামলা করেন।
পরে এসআরবি ছায়াতদন্ত করে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে শিশু বায়জিদকে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ব্যাটালিয়নটি জানায়, শিশু বায়জিদকে বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় অপহরণকারীরা।
এসআরবি কর্মকর্তা নুরাঙ্গীর নাহিদ তদন্তের বরাত দিয়ে বলেন, মূলত চক্রটি শিশুটিকে বিক্রির উদ্দেশ্যে অপহরণ করেছিল। চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার তদন্তকালে ঘটনাস্থলের সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় অপহরণের পর শিশুটিকে প্রায় দেড় কি. মি. দূরে ফেয়ার নাসিং হোম ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর আরেকটি সিটি টিভি ফুটেজে লিপি ও নাসরিনকে শিশুটির হাত ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, তারা বিভিন্ন নিঃসন্তান দম্পতির নিকট শিশুটিকে বিক্রির চেষ্টা করেন কিন্তু তার বয়স বেশি হওয়ায় বিক্রি করতে পারেনি। লিপির পরামর্শে নাসরিন শিশুটিকে অন্যত্র নিয়ে চলে যায়। চক্রটির সদস্য নাসরিন এবং লিপি শিশুটিকে বিক্রয়ের চেষ্টা কালে এসআরবি ও পুলিশের তৎপরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিউজ প্রকাশের পর তারা শিশুটিকে টঙ্গী এলাকার রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে প্রথমে শিশুটিকে উদ্ধার ও পরে অপহরণকারী লিপিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রূপনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
