পুলিশের তেল বরাদ্দ কমেছে, জরুরি সেবা নিয়ে শঙ্কা

সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) জ্বালানি তেল ব্যবহারের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ডিএমপির এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জ্বালানি খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ ব্যয় করতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে উপপুলিশ কমিশনার (অপারেশনাল) মাসে সর্বোচ্চ ৪০০ লিটার তেল পাবেন। সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল) ৩৩০ লিটার, থানার পুরাতন গাড়ি ৪০০ লিটার, নতুন গাড়ি ৩০০ লিটার, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর ও পিআইর মোটরসাইকেল ৪৫ থেকে ৫০ লিটার এবং অন্যান্য মোটরসাইকেলে ১৮ থেকে ২৫ লিটার তেল দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পদক্ষেপের কারণে পুলিশের জরুরি সেবা দেওয়ার সক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ড, ডাকাতি ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কলে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।
ডিএমপির আদেশে বরাদ্দ করা জ্বালানি শুধু সরকারি কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত জ্বালানি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কোনো কর্মকর্তা ছুটিতে থাকলে বা যানবাহন বিকল থাকলে তখন জ্বালানি উত্তোলনও বন্ধ থাকবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এটি সরকারের সামগ্রিক ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনার অংশ। নন-অপারেশনাল যানবাহনসহ কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি কমানো হয়েছে। তবে নির্দেশনা রয়েছে, সেবায় যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে।’
এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে পুলিশের রমনা বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আগেও বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় কম ছিল। এখন তা আরও কমানোয় সংকট তীব্র হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিজ খরচে দায়িত্ব পালন করা লাগতে পারে, যা সদস্যদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।’
পুলিশ সদস্যরা বলছেন, তাদের দায়িত্ব পালনের একটি বড় অংশ নির্ভর করে মোটরসাইকেল টহলের ওপর। কোথাও আগুন, ডাকাতি বা সহিংসতার খবর পেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রয়োজন হয় দ্রুতগামী যানবাহন। আর এই পুরো ব্যবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে জ্বালানি তেল। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ কমে যাওয়া মানে যে কোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়া।
তেল না থাকলে পুলিশ দৌড়াবে কীভাবে, এমন প্রশ্ন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলুর। তিনি বলেন, ব্যয় সাশ্রয়ের নামে বরাদ্দ কমানোর আগে স্পষ্ট করা প্রয়োজন, কোথায় অতিরিক্ত খরচ ছিল।
তিনি বলেন, পুলিশ একটি জরুরি সেবা খাত। জ্বালানি সংকোচন যদি টহল কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে, তাহলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায়। টহল কমে যাওয়া এবং জরুরি ফোনের সাড়া দিতে বিলম্ব হলে ঝুঁকি বাড়বে।
পুলিশ সদস্যরা বলছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ব্যয় সাশ্রয়ের প্রয়োজন রয়েছে। তবে জরুরি সেবা খাতে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায় সরাসরি জননিরাপত্তার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।