Advertisement

রিক্সাচালক সেই সংগ্রামী মায়ের পাশে দাড়াল ঢাকা জেলা প্রশাসন

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রিক্সাচালক সেই সংগ্রামী মায়ের পাশে দাড়াল ঢাকা জেলা প্রশাসন
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সাথে সেই সংগ্রামী মহিলা অটোচালক আফরোজা। ছবি: ঢাকা জেলা প্রশাসন

রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে প্রতিদিন অসংখ্য মুখের ভিড়ে কিছু গল্প অদেখাই থেকে যায়। সেসব গল্পে নেই আলো, নেই প্রচার; আছে কেবল জীবনসংগ্রাম।

মেয়েটির নাম আফরোজা, বয়স ২৬-২৭ এর মত হবে। কোলে ১১ মাস বয়সী শিশু, মা মা করে কিছুক্ষণ পরপর কান্না করছে। শিশুর শরীর কৃষকায়, পরনে ছেঁড়া জামা। কিন্তু মা তার সন্তানের যত্নে কমতি করেনি। শিশুটির পার্থিব অভাব দূর হয়ে গেছে তার মায়ের স্নেহে, অকৃত্রিম ভালবাসা নামক এক একবিংশ শতকের দুর্লভ শব্দবন্ধে।

আফরোজার মা থাকেন মিরপুর এর বস্তিতে, ৫ ফুট বাই ৩ ফুট ঘরে। আফরোজা তার মায়ের ঘরে থাকতে পারেন না, স্থান সংকুলান হয়না তার আর তার মেয়ে তাইয়েবার। আফরোজা তার মেয়েকে নিয়ে বস্তিঘরের পাশে গাছের নিচেই ঘুমান। রোদ বৃষ্টি ঝড় , গাড়ির শব্দ, ধুলাবালি ই তার নিত্য দিনের সঙ্গী।

আফরোজা তার জীবন সংগ্রামে দু মুঠো ভাত আর সন্তানের জন্য একটু খাবার তুলে দিতে বেছে নিয়েছে অটোরিকশা চালকের আসন। শরীরের সাথে বেঁধে নিয়েছে তাইয়েবাকে, যেন শত সংগ্রামে মাথা নোয়াবার নয়, মায়ের মমতা।

ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আফরোজা ও তার মেয়ের জীবনসংগ্রামের কথা জানতে পেরে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে সরকারের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আফরোজার এই সাহসী জীবনসংগ্রাম ও মমতার প্রতি সম্মান জানায় ঢাকা জেলা প্রশাসন। মানুষের দুঃসময়ে সহমর্মী হয়ে পাশে থাকা এবং জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ার অঙ্গীকারও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।