চিকিৎসায় গাফিলতিতে মৃত্যু, টাকার জন্য লাশ আটকে রাখার অভিযোগ

রাজধানীর উত্তরায় চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বকেয়া বিল দিতে না পারায় লাশ আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে উত্তরার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৩০ মার্চ) এমন অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। তবে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ব্রেন স্টোক জনিত কারণে গত ২২ মার্চ উত্তরার হাই-কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন দক্ষিণখানের মুক্তিযোদ্ধা রোডের বাসিন্দা জাহানারা বেগম। পরে একের পর এক টেস্ট বাণিজ্য ও মাথার খুলি খুলে অস্ত্রোপচারের কথা জানালে সেখান থেকে তাকে নেওয়া হয় উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আজ সোমবার সেখানে মারা যান তিনি।
এদিকে সাধ্য অনুযায়ী বিল পরিশোধ করার পরও অতিরিক্ত বিলের টাকার জন্য মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ করেন স্বজনরা।
নিহত জাহানারার ছেলে মো. অপু অভিযোগ করে বলেন, ‘মাকে প্রথমে হাই-কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে একের পর এক টেস্ট বাণিজ্য এবং ওষুধ বাণিজ্য শুরু করে। এত কিছুর পরও মায়ের কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। হাই-কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মার মাথার খুলি খুলে অপারেশন এবং বিশাল খরচের কথা জানালে উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে নিয়ে ভর্তি করাই।’
অপু অভিযোগ করে বলেন, ‘একই অবস্থা শুরু করে আধুনিক মেডিকেলও। এত পরীক্ষা ও ওষুধের পরও মার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। এত টেস্ট দেখে আমি আইসিইউর ইনচার্জকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বাইরের এত টেস্ট কিসের? পরে ওই ডাক্তার জানিয়েছেন, ‘তিনি ওই টেস্টগুলো দেননি।’
তিনি বলেন, ‘মা অচেতন হয়ে গেলে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে চিকিৎসকরা জানায়, মা মারা গেছে।’
রোগীর অবস্থার পরিবর্তন করতে না পারলে তারা অপারেশনের জন্য নিয়ে গেছে কেন, এমন প্রশ্ন করেন রোগীর আরেক স্বজন।
স্বজনরা জানান, তারা এর মধ্যে দুই লাখ টাকার বেশি হাসপাতালে বিল পরিশোধ করেছেন। মারা যাওয়ার পর আরও তিন লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। তাদের এত টাকা নেই। বিল না দিতে পারায় লাশ আটক রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে হাসপাতালটির উপ-পরিচালক ডা. মো. বজলুর রহমান আদিল বলেন, ‘আমরা সব সময় রোগীকে বাঁচানোর চেষ্টা করি। রোগীকে মারা আমাদের কাজ না। আর বিলের জন্য মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।’
সর্বশেষ সোমবার রাত পর্যন্ত খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় জাহানারার মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে গেছেন স্বজনরা।