মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রিহ্যাবের ২ কর্মী আটক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার ফ্ল্যাট থেকে সিপার মোস্তফা (৬৩) নামে এক মানসিক রোগে আক্রান্ত এক ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়ার ঘটনায় একটি রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের দুই কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত হাতকড়াটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছেন। আটকরা হলেন, মো. জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ (৪৭) এবং মো. আমিনুর ইসলাম (৪২)।
তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানাধীন স্যার সৈয়দ রোডের ৫/৭ নম্বর বাসার ৭/বি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ের যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তি সিপার মোস্তফার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। পরে তাকে হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে জোর করে ফ্ল্যাট থেকে নিচে নামিয়ে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি দেখে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
তিনি জানান, সিপার মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তার পরিবারের সদস্যরা পৃথকভাবে বসবাস করেন। তার ছোট ভাই সাবির মোস্তফা তাকে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য উত্তরা সেক্টর-১১-এর লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এর আগেও ২০২১ সালে তাকে ওই রিহ্যাব সেন্টারে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর সিপার মোস্তফাকে প্রকৃতপক্ষে লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে উত্তরা পশ্চিম থানার মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে পুলিশ তার ওই প্রতিষ্ঠানে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এদিকে ফ্ল্যাট থেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে একজনকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অধিকাংশ ভাড়াটিয়া ও ফ্ল্যাট মালিকের জানা ছিল না। ফলে ঘটনাটি ঘিরে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
ওসি হালিম বলেন, লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের মালিক ডা. মো. জসিম উদ্দীনের কাছে একজন ব্যক্তিকে হ্যান্ডকাফ পরানোর আইনগত বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে কিছু মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে রিহ্যাবে নেওয়ার সময় হ্যান্ডকাফ ব্যবহার করা হয় বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হ্যান্ডকাফ ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
আটক জসিম উদ্দিন ওরফে পলাশ লাইটহাউজ রিহ্যাবিলিটেশনের অফিস স্টাফ হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার ঢাকেরগাঁও এলাকায়। অন্য আটক আমিনুর ইসলামও একই প্রতিষ্ঠানের অফিস স্টাফ। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের দাইন্যা চৌধুরী এলাকায়।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম।
