logo

দেশে ফিরলেন রোমে আটকে পড়া বিমানের ২৫৯ যাত্রী

দেশে ফিরলেন রোমে আটকে পড়া বিমানের ২৫৯ যাত্রী
রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আটকে পড়া যাত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত

কারিগরি ত্রুটির কারণে ইতালির রোমে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর দেশে ফিরেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের ২৫৯ যাত্রী।

রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

দুপুর দেড়টার দিকে বিমানবন্দরের টার্মিনাল থেকে বেরিয়ে আসা যাত্রীদের অনেকের চোখেমুখে ছিল ক্লান্তির ছাপ। দীর্ঘ সময় বিমানবন্দর ও লাউঞ্জে কাটানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কানাডার টরন্টো থেকে আসা যাত্রী শাজাহান আলম বলেন, ৪০ ঘণ্টা যাযাবরের মতো ছিলাম। আট ঘণ্টা ফ্লাইটের ভেতর কেটেছে। এরপর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে নেওয়া হয়। পরে বলা হয় হোটেলে নেওয়া হবে। কিন্তু বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের লাউঞ্জে রেখে আমেরিকা-কানাডার পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নেওয়া হয়। আমরা লাউঞ্জেই পড়ে রইলাম।

বাংলাদেশি পাসপোর্টের কোনো দামই দেওয়া হয়নি মন্তব্য করে শাহজাহান আলম বলেন, খাবার যা দেওয়া হয়েছে, সেটাও আমাদের উপযোগী ছিল না। সব মিলিয়ে প্রায় দুই দিনের মতো যাযাবরের জীবন কাটাতে হয়েছে।

আনিকা নামের আরেক যাত্রী জানান, রোমে অবতরণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা ফ্লাইটের কারিগরি ত্রুটির কথা জানতে পারেন। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। পরে যাত্রীদের নামিয়ে লাউঞ্জে রাখা হয়।

তার অভিযোগ, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের লাউঞ্জে রেখে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নেওয়া হয়েছিল। চেয়ারেই কেটে গেল ৪০ ঘণ্টা। বিমান ও আমাদের অ্যাম্বাসি চেষ্টা করলে আমাদেরও হোটেলে নেওয়া সম্ভব ছিল। অনঅ্যারাইভাল ভিসা দেওয়ার উদ্যোগও ছিল। কিন্তু কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে আমাদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

শাফায়াত হোসেন নামে আরেক যাত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে পাসপোর্ট শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন সরকার, নতুনভাবে সবকিছু শুরু হচ্ছে। বিমান ও অ্যাম্বাসিতে পুরোনো ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে চাই। তারপরও আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়েম রানাও ফ্লাইটটিতে আটকা পড়েছিলেন। তিনি বলেন, একটা চেয়ারে কীভাবে এত সময় কাটানো সম্ভব? এত বড় একটি ঘটনায় সমন্বয়ের ঘাটতি কেন থাকবে? যাত্রীদের দুর্ভোগের সময় দায়িত্বশীলদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল।

কানাডার পাসপোর্টধারী মাহমুদা তালুকদার জানান, তিনি ও তার ছোট মেয়ে হোটেলে থাকার সুযোগ পেয়েছেন। তার ভাষ্য, আমার কানাডার পাসপোর্ট থাকায় হোটেলে ছিলাম। ছোট মেয়ে নিয়ে আমার তেমন কষ্ট করতে হয়নি। কিন্তু যারা বিমানবন্দরে ছিলেন, তাদের অনেক দুর্ভোগ হয়েছে।

যাত্রীরা জানান, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বা চেয়ারে বসে থাকা ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার মধ্যে অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

তাদের কেউ কেউ রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। যাত্রীদের ভাষ্য, সেবার মান ও যাত্রী ব্যবস্থাপনায় দ্রুত পরিবর্তন না আনলে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সটি যাত্রীদের আস্থা হারাতে পারে।

যেভাবে রোমে আটকে পড়ে ফ্লাইটটি

বৃহস্পতিবার কানাডার টরন্টো থেকে ২৫৯ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে বিজি-৩০৬। শুক্রবার ইতালির রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে জ্বালানি নিতে যাত্রাবিরতির সময় উড়োজাহাজটিতে কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে।

দীর্ঘ প্রায় আট ঘণ্টা চেষ্টা করেও ত্রুটি মেরামত করা সম্ভব না হওয়ায় ফ্লাইটটি বাতিল করে যাত্রীদের উড়োজাহাজ থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়। পরে যাত্রীদের একাংশকে হোটেলে এবং যাদের ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি ছিল না, তাদের বিমানবন্দরের লাউঞ্জে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম নিয়ে বাংলাদেশ থেকে একটি প্রকৌশলী দল শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ১১টার দিকে রোমে পৌঁছায়। এরপর প্রকৌশলীরা উড়োজাহাজটির ত্রুটি মেরামত করে সেটিকে উড্ডয়নের উপযোগী করেন।