ঢাকার ৫৭টি পয়েন্টে ৭০টি এআই ক্যামেরা ব্যবহার হচ্ছে

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ৫৭টি পয়েন্টে ৭০টি এআই ক্যামেরা নজরদারি করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে এআই ক্যামেরার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয় জানিয়েছেন।
এ সময় এআই ক্যামেরার নামে ভুয়া মামলা ও জরিমানার বার্তা পাঠানোর বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের কিছু ফিশিং লিংকের সন্ধান পাওয়া গেছে। আমাদের সাইবার টিম বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগ ও বিআরটিএর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ট্রাফিক মামলার নোটিশ নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাই কোনো ফিশিং লিংকে প্রবেশ না করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে লিখিত বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকালে রাজধানীতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা, নাশকতা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। পশুর হাট, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল, রেলস্টেশন, শপিংমল, আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঈদের জামাতস্থল এবং ফাঁকা বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির সব ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
তিনি জানান, গত এক মাসে ডিএমপির বিভিন্ন অভিযানে ৬৫৮ জন চাঁদাবাজ, ৯৭১ জন ছিনতাইকারী এবং ১ হাজার ২১৫ জন মাদক কারবারিসহ মোট ২ হাজার ৮৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় উদ্ধারকৃত আলামতের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিযানে ৭৪৪ কেজি গাঁজা, ১ লাখ ৭৯ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট, ৪০৫ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ২৮১ বোতল ফেনসিডিল, ২৮ লিটার দেশি-বিদেশি মদ, ২৯ গ্রাম আইস, ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২১ রাউন্ড গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, ১১টি ককটেল ও ১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা এবং অবৈধ ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চক্রের সঙ্গে জড়িত ছয়জন চীনা নাগরিকসহ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ৫২৩টি মোবাইল ফোন, ২৯৩টি সিম কার্ড, চারটি মাইক্রোবাস, ছয়টি প্রাইভেটকার, একটি কাভার্ডভ্যান, একটি বাস, নয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং ১৫টি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের কার্যক্রম সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী কিংবা উত্তরা নয়, রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
