Advertisement

সেনাবাহিনী-পুলিশ-র‍্যাবের কর্মকর্তা সেজে চাকরির নামে প্রতারণা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
সেনাবাহিনী-পুলিশ-র‍্যাবের কর্মকর্তা সেজে চাকরির নামে প্রতারণা
ছবি: সংগৃহীত

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার কাছ থেকে সেনাবাহিনীর মেজর ও র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার কর্মকর্তার পরিচয়ে তৈরি ভুয়া পরিচয়পত্র, ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, সেনাবাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি, মোবাইল ফোনসহ বিপুলসংখ্যক আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম, বিপিএম, পিপিএম।

ডিবি জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্রের সহায়তায় নুরুল চৌধুরী বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকর্তা সেজে চাকরিপ্রত্যাশীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বেকার যুবক থেকে শুরু করে রিকশাচালক, শ্রমিক ও দিনমজুর, নিম্ন আয়ের মানুষও ছিল তার প্রতারণার অন্যতম টার্গেট।

তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির তৃতীয়তলায় অভিযান চালায় ডিবি-রমনা বিভাগের একটি দল। সেখান থেকে নুরুল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুটি ওয়াকিটকির চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়ে একটি ভুয়া আইডি কার্ড, র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়ে একটি ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বই, বিভিন্ন ফরম ও প্যাড, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়ে পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরমও উদ্ধার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ‘মেজর আল মামুন’, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি। সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিতেন।

ডিবির এই কর্মকর্তা জানান, প্রতারণার ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য চক্রটি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন ফরম তৈরি করত। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ছবি তুলে তা ব্যবহার করা হতো। ভুয়া পরিচয়পত্র ও ওয়াকিটকিও ব্যবহার করতেন তারা।

শুধু সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না নুরুল চৌধুরীর প্রতারণা। কখনও এসবি ও ডিবির সদস্য, আবার কখনও ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করার তথ্যও পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তার নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় প্রতারণাসংক্রান্ত একটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে নুরুল চৌধুরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, উদ্ধার হওয়া ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।