আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি

‘কমিউনিটি পুলিশিং, সবাই মিলে গড়ি নিরাপদ সমাজ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর পল্লবী থানায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওপেন হাউজ ডে’। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, চাঁদাবাজি ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। নিরাপদ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টায় পল্লবী থানা এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্যে উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলা। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কোনোভাবেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
পরে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকায় মাদক বিস্তার, কিশোর গ্যাং, চুরি-ছিনতাই, যানজট, সামাজিক অবক্ষয় ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে তাদের মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
আলোচনা পর্বে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারে না। সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
তিনি পরিবারভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে তারা মাদক, অপরাধ ও উগ্রবাদে জড়িয়ে না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যুব সমাজকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। বিদেশগামী তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।
প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, মাদক ও কিশোর অপরাধ বর্তমানে সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন), অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (পল্লবী জোন), সহকারী পুলিশ কমিশনার (পল্লবী জোন) মো. জাহিদ হোসেন, পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্মতাসহ (ওসি) বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ।