logo

৫ কাঠা বা তদূর্ধ্ব প্লটে পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক: রাজউক চেয়ারম্যান

৫ কাঠা বা তদূর্ধ্ব প্লটে পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক: রাজউক চেয়ারম্যান
বৃহস্পতিবার রাজউক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এসটিপি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে কথা বলেন মো. রিয়াজুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে পাঁচ কাঠা বা এর চেয়ে বেশি আয়তনের প্লটের ক্ষেত্রে পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার বা সোয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি জানান, ভবিষ্যতে নতুন ভবনের নকশা বা প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজউকের পক্ষ থেকে এসটিপির নকশা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টায় রাজউক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘নগর উন্নয়নে পয়ঃনিষ্কাশন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও এসটিপি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ভবন মালিকরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসটিপি স্থাপন করতে পারবেন। তবে যেসব ভবনের অনুমোদিত নকশায় সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে স্থাপন করতে হবে।

গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার লেকসমূহের দূষণ প্রসঙ্গে মো. রিয়াজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, লেকগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

লেকসমূহে টয়লেটের বর্জ্য প্রবাহ বন্ধ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে এসটিপি স্থাপনের ওপর জোর দেন তিনি।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) এরাদুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন গুলশান, বারিধারা ও বনানী সোসাইটির সভাপতি এবং রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

লেকভিত্তিক আঞ্চলিক এসটিপি স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সেমিনারে আলোচনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজউক ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি বিশেষ মেলার আয়োজন করবে বলেও জানান রিয়াজুল ইসলাম।

সেমিনারে এসটিপির প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, উপযোগিতা ও সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করে দেশের ১০টি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—সিগমা গ্রুপ অব কোম্পানিজ (সিগমা ইঞ্জিনিয়ার্স লি.), ইলিপ্স ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি., বায়োটেক ইনোভেশনস লি., বাংলাদেশ গ্রিন বিল্ডিং একাডেমি, দাইকি এক্সিস বাংলাদেশ, অ্যাকুমেন ইঞ্জিনিয়ারিং লি., সেন্টার ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (সিইটিএ), রিসার্চ ইনোভেশন কমার্শিয়ালাইজেশন, ক্লাইমা এনার্জি ইপিসি এবং পিভট ইঞ্জিনিয়ারিং লি.।

সেমিনারের শেষপর্যায়ে রাজউক চেয়ারম্যান অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর উন্নয়নে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।