logo

৯৪ কোটির স্বর্ণ আত্মসাৎ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন সেলসম্যান

৯৪ কোটির স্বর্ণ আত্মসাৎ করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন সেলসম্যান
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকার স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক এক সেলসম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে তিনি নিজেই জুয়েলারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা, ফ্ল্যাট-গাড়ি ক্রয় এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক (৪৭)। তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তেজগাঁও থানাধীন বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

সিআইডি জানায়, কৃষ্ণ বসাক একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীর সহযোগিতায় তিনি প্রায় ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পেনাল কোডের ৪০৮/৪২০/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠানটির একাধিক জুয়েলারি দোকান রয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে এসব দোকান থেকে স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। পরে স্টক যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিষয়টি ধরা পড়ে।

সিআইডির তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত কৃষ্ণ বসাক দায়িত্বে থাকাকালীন অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশে মালিকপক্ষের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আত্মসাৎ করেন।

তদন্তকালে আয়কর নথি ও আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাসে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তার বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ ছাড়া ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট ও কার পার্কিং, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৩ টাকার শেয়ার এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণ প্রদর্শনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির ধারণা, এসব সম্পদের একটি অংশ আত্মসাৎ করা স্বর্ণের অর্থে অর্জিত হতে পারে। এ ছাড়া তার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দপূর্বক রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

এ মামলায় এর আগেও এক এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগ। ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তার এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।