মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী যুবক নাহিদ হাসান।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে তিনি এ অভিযোগ জমা দেন। ফেসবুকে ‘উজান টিভি’তে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আলোচিত নাহিদ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনকে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ভুক্তভোগী নাহিদ হাসানের অভিযোগের তদন্তভার পেয়েছি। এ বিষয়ে আগামীকাল থেকে কাজ শুরু করব। তাকে থানায় আসতে বলেছে। বিস্তারিত শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযোগকারী নাহিদ থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে বিস্তারিত জানা যাবে।
অভিযোগপত্রে নাহিদ বলেন, ‘আমি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন এবং লোকমুখে জানতে পারি যে ঢাকার সাভার মডেল থানাধীন বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর সাকিনে ১ নং বিবাদী মিল্টন সমাদ্দার (৩৯) কর্তৃক পরিচালিত চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার নামীয় প্রতিষ্ঠানে পরিচয়বিহীন শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের আশ্রয় প্রদানসহ অসুস্থ ব্যক্তিদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। গত ২৩ আগস্ট আনুমানিক দুপুর আড়াইটার সময় শরণখোলা থানাধীন বকুলতলা সাকিনে দশকুড়া সংলগ্ন রাস্তায় একজন পরিচয়বিহীন ও অসুস্থ বৃদ্ধা মহিলাকে (আনুমানিক ৬৫ বছর বয়স) অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার পরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের সন্ধান করার চেষ্টা করি। কিন্তু তার পরিবারের কোনো সদস্য বা ওয়ারিশের সন্ধান না পাওয়ায় মানবিক কারণে তাকে উদ্ধার করে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে মিল্টন সমাদ্দারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে বৃদ্ধাকে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় ও সেবা প্রদানের জন্য নেওয়ার অনুরোধ করি।’
আরও বলা হয়, ‘প্রথমে তিনি ওই বৃদ্ধাকে তার প্রতিষ্ঠানে নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে আমার অনুরোধের পর একপর্যায়ে তাকে সেবা ও আশ্রয় প্রদানের বিনিময়ে মাসিক ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এ অবস্থায় উপায়ান্তর না পেয়ে মিল্টন সমাদ্দারের কথামতো গত ২৫ আগস্ট শরণখোলা উপজেলা থেকে রওনা হয়ে দিবাগত রাত আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকার সময় অ্যাম্বুলেন্সযোগে বৃদ্ধাকে চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাই। সেখানে পৌঁছামাত্র পরিচালক মিল্টন সমাদ্দার, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার দেবাশীষ (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জন বিবাদী পূর্বের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার তথ্যের জের ধরে অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
নাহিদ হাসান বলেন, ‘একপর্যায়ে মিল্টন সমাদ্দার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। তখন আমার সঙ্গে থাকা মো. ইলিয়াস হোসেন আমাকে বিবাদীদের কবল থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তারা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা বিবাদীদের সহায়তায় মিল্টন সমাদ্দার আমার কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তার দায়মুক্তি ও পক্ষপাতমূলক বক্তব্য সম্বলিত একটি ভিডিও ধারণ করে রাখে। পূর্বের পোস্টটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় মিল্টন সমাদ্দার নিজের অপরাধ ও দায় এড়ানোর উদ্দেশ্যে উক্ত বৃদ্ধাকে তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে রেখে দেয় এবং আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা মো. ইলিয়াস হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। এরপর আমরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করি।’
এর গতকাল বুধবার (২৬ আগস্ট) নাহিদ হাসান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করে বলেন, এক বৃদ্ধ নারীকে মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠান চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারে আশ্রয় দিতে নিয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ-সংযোগ বন্ধ করে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়নি বলেন স্বীকৃতি নেওয়া হয়।


