গুলশান সোসাইটির অফিসে ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

রাজধানীর গুলশান সোসাইটির কার্যালয়ে ঢুকে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. আনোয়ার (৩০), মো. নাজমুল (২৫) ও মো. জিদান মিয়া (১৯)।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।
এতে বলা হয়, গুলশান আবাসিক এলাকার গৃহস্থালি বর্জ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার কাজ করছে গুলশান সোসাইটি। সম্প্রতি কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘মাহাবুব ও রবিন গ্রুপের’ সদস্য পরিচয় দিয়ে সোসাইটির নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
তারা গুলশান আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসায় ‘রুবি এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের লিফলেট বিতরণ করে বর্জ্য অপসারণের টাকা তাদের দিতে হবে বলে দাবি করেন।
পুলিশের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির কোনো রেজিস্ট্রেশন বা অনুমোদন নেই।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ অক্টোবর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন অস্ত্রধারী গুলশান সোসাইটির কার্যালয়ে ঢুকে উপস্থিত সবাইকে জিম্মি করে। বর্জ্য অপসারণের কাজ তাদের দেওয়ার জন্য চাপ দেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
একপর্যায়ে তারা সোসাইটির কাছে প্রতি মাসে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে সোসাইটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মীদের বড় ধরনের ক্ষতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর তদন্ত শুরু করে গুলশান থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। পরে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে খিলক্ষেত থানার আশিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার, নাজমুল ও জিদানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় শনিবার গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৩৮৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ হয়।