logo

বিনা নোটিশে সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই, প্রতিবাদে গার্মেন্ট পরিচালক অবরুদ্ধ

বিনা নোটিশে সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই, প্রতিবাদে গার্মেন্ট পরিচালক অবরুদ্ধ
বিনা নোটিশে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর দক্ষিণখানে সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিককে বিনা নোটিশে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে তিন দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন প্রায় এক হাজার শ্রমিক। অন্যদিকে তিন দিন ধরে ‘এপিএস অ্যাপারেলস লি.’ নামের ওই তৈরি পোশাক কারখানার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল ওয়াজেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

দক্ষিণখানের আটিপাড়া এলাকার ওই পোশাক কারখানায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই সময় দক্ষিণখান থানা-পুলিশের সদস্যদের সেখানে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হঠাৎ করে সাড়ে তিন শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের তালিকাসহ নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

ওই নোটিশে শ্রম আইনের ২০ ধারার কথা উল্লেখ রয়েছে; যা কার্যকর হলে শ্রমিকরা কোনো পাওনা পাবেন না। শ্রমিকদের দাবি, তাদের যেন শ্রম আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী ছাঁটাই করা হয়, যেখানে অন্তত চার মাসের বেতন ও অন্যান্য পাওনাদি পরিশোধের বিধান রয়েছে। তবে মালিকপক্ষ এতে সম্মতি জানায়নি।

ছাঁটাইয়ের তালিকায় থাকা শ্রমিক মো. রাব্বি এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত রোববার বিকেলে বিনা নোটিশে ৩৭৭ জন শ্রমিককে শ্রম আইনের ২০ ধারায় ছাঁটাইয়ের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি—আমরা ২০ ধারা মানি না, আমাদের ২৬ ধারায় ছাঁটাই করা হোক।

তিনি আরও বলেন, ২৬ ধারায় ছাঁটাই করলে ১২০ দিনের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। মালিকপক্ষ এটি মানতে রাজি নয়। গত তিন দিন ধরে খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম বাদ দিয়ে আমরা কারখানায় অবস্থান করছি, কিন্তু মালিকপক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো চেষ্টা করেনি।

মো. উজ্জ্বল নামের আরেক শ্রমিক বলেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই ২০ ধারায় ছাঁটাই করে দেওয়া হয়েছে, যেন আমরা কিছুই না পাই। অথচ ছাঁটাই করতে হলে এক মাস আগে নোটিশ দেওয়ার কথা। কারখানায় পর্যাপ্ত কাজ রয়েছে, যা দিয়ে আরও অন্তত ছয় মাস চালানো সম্ভব। তা সত্ত্বেও আমাদের ছাঁটাই করা হলো।

আবুল কালাম আজাদ নামের আরেক শ্রমিক বলেন, কারখানায় কাজ থাকুক বা না থাকুক, সেটা দেখার বিষয় নয়। ২৬ ধারা অনুযায়ী পাওনা বুঝিয়ে দিলে আমরা চলে যাব। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জামিল হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, পূর্বনোটিশ ছাড়া ছাঁটাই করার প্রতিবাদে শ্রমিকরা আন্দোলন করছেন। আইন অনুযায়ী পাওনা বুঝিয়ে দিলে তারা চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা আশা করছি, মালিকপক্ষ এসে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সুরাহা করবে।

এসআই জামিল আরও জানান, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি; শ্রমিকরা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে অবস্থান করছেন।

এদিকে কারখানার ভেতরেই আন্দোলনরত শ্রমিকরা নির্বাহী পরিচালক আব্দুল ওয়াজেদসহ মালিকপক্ষের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, আমি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আপনারা হেড অফিসে যোগাযোগ করুন।