মানব পাচারে জড়িত ২ চীনা নাগরিকসহ বাংলাদেশি নারী গ্রেপ্তার

মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে দুই চীনা নাগরিকসহ একজন বাংলাদেশি নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—চীনের জিনজাই প্রদেশের জেন ফান, কিউজিয়ান প্রদেশের জিন সুচান এবং বাংলাদেশের কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সুইটি আক্তার।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে ডিএমপির উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন ও তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে তুরাগের দলিপাড়া পাকার মাথাসংলগ্ন সেক্টর ৩ এর ২০/এ নম্বর সড়কের ৩/এ নং বাসার চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে র্যাব-১ ও তুরাগ থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী ওই নারী ও মামলার বাদীকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নড়াইলের ১৯ বছর বয়সি এক নারী বাদী হয়ে তুরাগ থানায় ধর্ষণ ও মানব পাচার আইনে একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন এবং পলাতক জেং জেনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী এশিয়া পোস্টকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুইটির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে সুইটি উচ্চ জীবন বিলাসের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার উত্তরায় নিয়ে এসে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখে। সেখানে চীনের নাগরিক তাকে ধর্ষণ করে এবং বিদেশে পাচারের চেষ্টা চালায়।
এ বিষয়ে তুরাগ থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই চীনের নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীর বিরুদ্ধে মানব পাচার, ধর্ষণ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। ঘটনায় আরও একজন চীনের নাগরিক পলাতক রয়েছেন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া তিন জনকে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সাদ্দাম হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সুইটি আক্তার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত মেয়েদের বিয়েসহ নানান প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে আসে। পরে সুইটি আক্তার গ্রেপ্তার হওয়া দুই চীনের নাগরিকদের ও পলাতক সদস্যদের সহযোগীতায় বিভিন্ন জায়গায় পাচার করে আসছিল। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী মেয়েদেরকে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতনও করা হতো।