logo
Advertisement

গেন্ডারিয়ায় এলোপাতাড়ি গুলি: পুলিশ বলছে এখনো মামলা করতে আসেনি কেউ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
গেন্ডারিয়ায় এলোপাতাড়ি গুলি: পুলিশ বলছে এখনো মামলা করতে আসেনি কেউ
রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকা। ছবি: গুগল ম্যাপ থেকে নেওয়া

রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগের মুন্সিরটেক এলাকায় সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় এখনো কেউ মামলা দায়ের করতে আসেননি। কোনো ভুক্তভোগী মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Advertisement

এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এলোপাতাড়ি গুলির ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে ছোটাছুটি শুরু হয়। এ সময় পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

এ ঘটনার সার্বিক বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘গুলির ঘটনায় এখনো কেউ মামলা করতে আসেননি। তবে কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে।’

তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন জড়িত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গত রাত থেকে একাধিক স্থানে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। রাতের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঘটনার পর গেন্ডারিয়া থানার পক্ষ থেকে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গেন্ডারিয়া থানাধীন করাতিটোলা এলাকায় মাদকের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই গোলাগুলির সূত্রপাত। স্থানীয় বিএনপির ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সক্রিয় সদস্য মো. মনির হোসেন ও তার ভাগনে রাসেল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং অস্ত্রধারী হিসেবে পরিচিত ‘অটো সজল’ (বর্তমানে কারাগারে)-এর চাচা রাসেলকে মারধর করেন। পরবর্তীতে মো. মনির হোসেনের কাছে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল দিয়ে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে তারা পালিয়ে যান। এতে এলাকায় থাকা ব্যক্তিরা গুলিবিদ্ধ হন।

এদিকে সোমবার সকালে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত জানালার কাচ ও দেয়াল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে। এসব নমুনা পরীক্ষা করে গোলাগুলিতে কী ধরনের অস্ত্র ও গুলি ব্যবহার করা হয়েছে, তা শনাক্ত করা হবে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি পৃথক দল কাজ করছে। তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি র্যাবও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ছায়া তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, গেন্ডারিয়ার গুলির ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি এবং পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে আইনি প্রক্রিয়া, তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সাধারণ কেউ অভিযোগ না করলে পুলিশ বাদী হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সময় হলে বিষয়টি স্পষ্ট করা হবে।

অন্যদিকে, স্থানীয় সূত্রে আহতদের বিরুদ্ধেও মাদক সংশ্লেষের অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসা প্রতিবেশী খলিলুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন রনি দাবি করেন, মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। এলাকায় মাদক ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে প্রায়ই এ ধরনের সহিংসতার সৃষ্টি হয়। তবে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে বলে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।

রোববার সন্ধ্যায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন— পথচারী আশা আক্তার (২০), চা-দোকানি আলমগীর (৩৩) এবং পথচারী সিয়াম (১৮)। তবে তাদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং ঘটনাস্থলে সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে অবস্থান করছিলেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিয়ামের বুকের বাম পাশে, আলমগীরের মাথায় এবং আশার ডান পায়ে গুলি লেগেছে।