Advertisement

রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: মাসুদ কামাল

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন: মাসুদ কামাল
ছবি: সংগৃহীত

সরকার পতনের পরও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের গুঞ্জন এবং বিগত দিনের নানা বক্তব্য ও পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি নিজেই সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।’

শুক্রবার (২৪ জুলাই) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

টকশোতে মাসুদ কামাল বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন যখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছিলেন, তখন সেখান থেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জোর গুঞ্জন ওঠে। এই ফোনালাপের সূত্র ধরেই গণমাধ্যমে খবর আসছে যে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। জবাবে তিনি কিছুটা সময় চেয়েছেন এবং সম্ভবত অসুস্থতার অজুহাতে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন।

রাষ্ট্রপতির অতীত ভূমিকা ও সংবিধান লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ টেনে মাসুদ কামাল বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বিএনপির তৈরি করে দেওয়া ভাষণ পাঠ করেছিলেন, যেখানে শেখ হাসিনার তীব্র সমালোচনা ছিল। এমনকি সংবিধানে সুস্পষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি সংবিধান পরিপন্থী বক্তব্য দিয়ে তা লঙ্ঘন করেছেন। সংবিধানে কোনো আইন বহাল থাকা পর্যন্ত তা মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে; অন্তর্বর্তী সরকার যেমন ভেঙেছে, বর্তমান সরকারও ভাঙছে।

লন্ডনে থাকা অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত ফোনালাপ প্রসঙ্গে এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন, ফোনালাপের বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। কারণ রাষ্ট্রপতি নিজেই দাবি করেছেন যে তার সঙ্গে কারও কথা হয়নি। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গেও রাষ্ট্রপতির কথা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি বলেছেন ‘ফোন করতে হলে আমাকে লন্ডন গিয়ে কেন করতে হবে? আর তাছাড়া আমি তো সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলাম।’

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে মাসুদ কামাল আরও বলেন, সবকিছুর পরও রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতেই পারেন। কেন তিনি সরছেন, তা আন্দাজ করা কঠিন নয়। মূলত সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর অভ্যন্তরীণ অস্বস্তিই এর প্রধান কারণ। কিছুদিন আগে শেখ হাসিনা যখন ঘোষণা দিলেন যে তিনি ডিসেম্বরে (বা তার আগেই) দেশে ফিরবেন, তখন তার মনোনীত একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির পদে বহাল থাকা বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী কিংবা এনসিপির জন্য চরম অস্বস্তিকর। সম্ভবত এই মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখেই তাকে পদত্যাগের পথ বেছে নিতে হচ্ছে।