অনলাইন জুয়া পরিচালনা ও বিদেশে টাকা পাচার চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইট নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সংগ্রহ করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার।
সিআইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছিল। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জুয়াড়িরা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা—বিকাশ, রকেট ও নগদ, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করত। পরবর্তীতে এসব অবৈধ অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হত।
জানা যায়, চক্রটি গত প্রায় ৬ মাস ধরে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ার প্রতি প্রলুব্ধ করে প্রতিদিন আনুমানিক ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন পরিচালনা করে আসছিল। এর একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করা হত বলে স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ (৩২), সজীব চক্রবর্তী (২৯), মো. আশরাফুল ইসলাম (৪০), মো. জসীম উদ্দীন (৩৬), তৈয়ব খান (২৬), সৌমিক সাহা (২৮), মো. কামরুজ্জামান (৩৬) ও আব্দুর রহমান (৪৭)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার মনিটরিং সেল নিয়মিত অনলাইন নজরদারির সময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় অনলাইন জুয়ার সাইটের অস্তিত্ব শনাক্ত করে। এসব সাইটে মোবাইল ব্যাংকিং, ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন পরিচালিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-৪১, তারিখ: ১৬/১১/২০২৫ খ্রি.) রুজু করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৬ মে সিআইডির একটি দল ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের প্রথম চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও সাইবার সার্ভিলেন্স ডেটা বিশ্লেষণ করে শনিবার (১৬ মে) নরসিংদীর পলাশ থানা ও ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফলে মোট গ্রেপ্তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৮ জন।
অভিযানকালে সিআইডি নিম্নলিখিত আলামত জব্দ করেছে— মোট ১৩টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড (এজেন্ট ও বিভিন্ন অপারেটরের) বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংশ্লিষ্ট সিম, ভুয়া এজেন্ট সিম পাঠানোর কুরিয়ার রশিদ ও ডকুমেন্টস।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল হুন্ডি কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানান, গত ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে সংঘবদ্ধভাবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে তার একটি বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হুন্ডি চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হত।
সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম
চলতি মাসে সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের নিয়মিত পেট্রোলিংয়ে— ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট শনাক্ত করে বিটিআরসিতে প্রেরণ, ৮৭৯টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিএফআইইউতে প্রেরণ ৪৩টি ব্যাংক হিসাব বিএফআইইউতে প্রেরণ করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে সিআইডি এমটিএফই পনজি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
