ইনকিলাব মঞ্চের আহতদের কেউ গুলিবিদ্ধ নয়: ঢামেক পরিচালক

শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিনভর পুলিশের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করে।
এ ঘটনায় প্রায় ৬০ জন আহত হন। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন।
তবে আহত কাউকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের যারা কর্মী ছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। এখন পর্যন্ত আমরা ৬০ জনের মতো রোগী রিসিভ করেছি। এখনো রোগী আসছে। এই রোগীগুলোর মধ্যে ৩০ জন রোগী পেয়েছি, যাদের এক্সটারনাল ইনজুরি আছে। তবে কোনো গুলিবিদ্ধ অথবা পিলেটের রোগী পাইনি।
তিনি আরও বলেন, তাদের (আহতদের) স্কাল্প ইনজুরি, ফেস ইনজুরি, পায়ের ইনজুরি, এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনজুরি আছে, যেটা লাঠির আঘাতে হয়েছে। এ ছাড়া অনেকের ইনহেলেশন ইনজুরি আছে, যেটা টিয়ার শেলের কারণে হয়েছে। আমরা অক্সিজেন দিয়ে তাদের মোটামুটি সুস্থ করেছি। তবে কোনো রোগী আমরা এখনো ভর্তি করিনি।
এর আগে জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে যমুনার দিকে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও পথে মারধরের অভিযোগ তুলে তারা ফিরে আসেন।
এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে অবস্থানরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করা হয়।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ একাধিক আন্দোলনকারী আহত হন। পরে তাদের অনেকেই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেন।