আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল

সারা দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা ও প্রশাসনের নীরব ভূমিকার প্রতিবাদে রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আজাদী যাত্রা নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিলটির আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত ৮টার দিকে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের মুগ্ধ মঞ্চে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। মুগ্ধ মঞ্চের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয় রবীন্দ্র স্মরণি সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফের মুগ্ধ মঞ্চে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলকালে ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘আওয়ামী লীগের গদিতে, আগুন জ্বালো এক সাথে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘মুজিববাদ মুজিববাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘ধইরা ধইরা জেলে ভর, একটা একটা লীগ ধর’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’সহ নানান শ্লোগান দেওয়া হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আজাদী যাত্রার সদস্য ও ৫২নং ওয়ার্ড এনসিপির সমন্বয়কারী নুর মোহাম্মদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, সারাদেশে আওয়ামী খুনি সন্ত্রাসী বাহিনীর অপতৎপরতা বাড়ছে। জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির উপর গুপ্ত হামলা হচ্ছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। নীরবতা সম্মতির লক্ষণ হিসাবে আমরা বুঝি।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হচ্ছে প্রশাসন বা রাষ্ট্র তাদেরকে সাপোর্ট দিচ্ছে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুযোগ দেবে মর্মে ডা. জাহিদ উর রহমান বক্তব্য দিয়েছেন। বলেছেন, ব্যানার ছাড়া আওয়ামী লীগের লোকজন নির্বাচন করতে পারবে।
নুর মোহাম্মদ বলেন, ১৪শ শহীদ ও প্রায় ৩০ হাজার আহত ভাই-বোনের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রাসঙ্গিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গত আড়াই বছরে তারা কোথাও এখন পর্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করেনি। এখনো তারা শহীদ ওসমান হাদি ভাইকে নিয়ে ফেসবুক পোস্টে নোংরামি করতেছে। সেই সাথে জুলাইয়ের পক্ষের প্রত্যেকটা শহীদকে নিয়ে তারা ফেসবুক পোস্টে নোংরামি ছড়াচ্ছে।
অপরদিকে আজাদী যাত্রার সদস্য নাহিদ শিকদার বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দেশের মাটিতে আওয়ামী লীগকে আশ্রয়ের করার প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি। উত্তরায় কমপক্ষে ১০ হাজার আওয়ামী লীগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের কোনো বিচার হচ্ছে না। তাদেরকে ধরিয়ে দেওয়া হলে পুলিশ আমাদেরকে জেরা করছে, আপনারা কারা?’
নাহিদ আরও বলেন, ‘১৫ আগস্টের পর যখন আওয়ামী লীগ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তখন জিয়াউর রহমান দয়া দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। ফিরিয়ে আনার পর সেই আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছে। ২৪ এর আন্দোলনের পর যখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটি থেকে পালিয়ে গেছেন। সেই আওয়ামী লীগকে যদি আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন, আমি জানি না তারেক রহমানের কি হবে? কিন্তু পাঁচ বছর পর বিএনপি নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।’
