logo
Advertisement

রাজধানীতে ককটেল আতঙ্ক, পুলিশের দুই শতাধিক চেকপোস্ট

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
রাজধানীতে ককটেল আতঙ্ক, পুলিশের দুই শতাধিক চেকপোস্ট
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর একটি চেকপোস্টে প্রাইভেট কারে চলছে তল্লাশি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ককটেল বিস্ফোরণ এবং কাফরুল থানার সামনে ফাঁকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করেছে পুলিশ। পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াও সঙ্গে থাকা ব্যাগ এবং মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০০টিরও বেশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

যাত্রাবাড়ী শুক্রবার সন্ধ্যায় পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে কে বা কারা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আউটগোয়িং ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যাত্রাবাড়ী থানার কম্পাউন্ডের দেয়াল ঘেঁষে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। এর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হয়, অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়।

পাঁচ মিনিট পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ইনকামিং ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা। এতে মো. ইবাদুর রহমান (২৬) নামের এক অটোরিকশাচালক আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর একটি চেকপোস্টে মোটরসাইকেলচালককে তল্লাশি করছে পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর একটি চেকপোস্টে মোটরসাইকেলচালককে তল্লাশি করছে পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মগবাজার চৌরাস্তা মোড়ে শুক্রবার রাত সোয়া ৯টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এই ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। রাত ১০টায় মিরপুরের কাফরুল এলাকায় একটি থেমে থাকা বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় অজ্ঞাত দৃষ্কৃতকারীরা। এই ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

এ ছাড়া শুক্রবার মহাখালী এলাকায় দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়। আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কে একটি, মৌচাক মোড়ের ফরচুন শপিংমলের সামনে একটি, মালিবাগের সোহাগ পরিবহন বাস কাউন্টারের সামনে একটি, পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি, গুলিস্তান এলাকায় একটি এবং সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কাউকে শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ ধরনের বিস্ফোরণ কারা ঘটাতে পারে, জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান এলাকায় মিছিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পরে গুলশান থানার ওসি ও গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।