logo
Advertisement

খুপরি ঘরে বেড়ে ওঠা উম্মে সালমার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
খুপরি ঘরে বেড়ে ওঠা উম্মে সালমার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালেন ডিসি ফরিদা
উম্মে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দিচ্ছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর মধুবাগের ছোট্ট খুপরি ঘরে বসবাস উম্মে সালমার। বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করেন, মা নাজমা বেগম কাজ করেন মানুষের বাসাবাড়িতে। অভাবের সংসারেও পড়াশোনা চালিয়ে এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছেন উম্মে সালমা। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও কলেজে ভর্তির টাকা নিয়েও সংকট। এ খবর জানতে পেরেই সালমার পাশে দাঁড়িয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

Advertisement

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উম্মে সালমার হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। একই সঙ্গে কলেজে ভর্তি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সম্প্রতি উম্মে সালমার ভালো ফলাফল এবং আর্থিক সংকটের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েও অর্থের অভাবে কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। বিষয়টি নজরে আসার পর তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম।

উম্মে সালমার বাবা মিরাজ আলী চা বিক্রি করে সংসার চালান। তার স্ত্রী নাজমা বেগম মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করেন। দুজনের সামান্য আয়ে সংসারের খরচ মেটাতেই হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যেই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে আসছিলেন তারা।

মিরাজ আলী বলেন, চা বিক্রি করে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। মেয়ে এসএসসিতে এ প্লাস পাওয়ায় তিনি খুব খুশি। কিন্তু কলেজে ভর্তি ও পরবর্তী পড়াশোনার খরচ কীভাবে চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। জেলা প্রশাসক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।

উম্মে সালমার মা নাজমা বেগম বলেন, তার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। তার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার। তারা চান, মেয়ের পড়াশোনা যেন কোনোভাবেই বন্ধ না হয়। জেলা প্রশাসক পাশে দাঁড়ানোয় তারা অনেকটা আশ্বস্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, অদম্য মেধা ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে আর্থিক সংকট কোনো শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না। উম্মে সালমা প্রতিকূলতার মধ্যেও এসএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে, যা তার মেধা ও পরিশ্রমের প্রমাণ। তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের কথা জেনে আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমাদের নজর রয়েছে। উম্মে সালমার মতো শিক্ষার্থীদের স্বপ্নপূরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিত। আশা করি, সালমা তার স্বপ্নপূরণ করে একদিন একজন ভালো চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে।