logo

ঈদের ছুটিতেও কমেনি রাজধানীর বায়ুদূষণ

ঈদের ছুটিতেও কমেনি রাজধানীর বায়ুদূষণ

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হলেও বায়ুদূষণ কমেনি। দূষিত শহরের বৈশ্বিক তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ারে তালিকায় দেখা যায়, ঢাকার বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। এই সময়ে রাজধানীর বায়ুমান সূচক ছিল ১৫৫, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

সাধারণত ঈদের ছুটিতে যানবাহন ও জনসমাগম কমে যাওয়ায় রাজধানীর বায়ুমান কিছুটা উন্নত হওয়ার কথা। তবে এবার সেই চিত্র দেখা যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণকাজের ধুলা, ইটভাটা এবং আশপাশের এলাকা থেকে আসা দূষিত বায়ুর প্রভাবের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তালিকার ২০৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে ভারতের দিল্লি। এরপরই ১৮০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে চীনের বেইজিং ও ১৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান। তাদের পরেই অবস্থান ঢাকার।

এদিকে তালিকায় থাকা অন্যান্য শহরের মধ্যেও নেপালের কাঠমান্ডু ও থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ১৫৩ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে, ১৫১ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে পাকিস্তানের লাহোর, ১৪৯ পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে চীনের উহান, ১৪৪ পয়েন্ট নিয়ে নবম স্থানে ভারতের কলকাতা ও ১৩৫ পয়েন্ট নিয়ে ১০ম স্থানে রয়েছে পোল্যান্ডের রকলো শহর।

মূলত, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্টের ওপর ভিত্তি করে- বস্তুকণা (পিএম-১০ ও পিএম-২.৫), এনও২, সিও, এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।

বস্তুকণা পিএম-২.৫ হলো বাতাসে থাকা সব ধরনের কঠিন এবং তরল কণার সমষ্টি, যার বেশির ভাগই বিপজ্জনক। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন—প্রাণঘাতী ক্যানসার এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে পিএম-২.৫। এ ছাড়া বায়ু দূষণকারী এনও২ প্রধানত পুরোনো যানবাহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প স্থাপনা, আবাসিক এলাকায় রান্না, তাপদাহ এবং জ্বালানি পোড়ানোর কারণে তৈরি হয়।