logo

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল হবে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’: ডিএসসিসি প্রশাসক

মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল হবে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলকে আধুনিক ‘রিসোর্স সার্কুলেশন পার্কে’ (ডিআরসিপি) রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট ও অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নগর ভবনে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামের সঙ্গে কোরিয়াভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বি অ্যান্ড এফ কোম্পানির কারিগরি দলের এক মতবিনিময় সভায় এ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সভায় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ‘ঢাকা রিসোর্স সার্কুলেশন পার্ক’ নির্মাণের মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করা হয়।

সভায় জানানো হয়, ডিএসসিসির ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং সীমিত জনবল ও বাজেটের কারণে শতভাগ পরিচ্ছন্ন সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে চারটি মূল পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো হলো ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’ বাস্তবায়ন, অঞ্চলভিত্তিক ‘মেটেরিয়াল রিকভারি সেন্টার’ (এমআরএফ) স্থাপন, ‘থ্রি আর’—রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল—নীতির প্রয়োগ এবং বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ডিএসসিসি ইতোমধ্যে কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

প্রস্তাবিত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের পুরোনো ১০০ একর জায়গা থেকে ল্যান্ডফিল গ্যাস সংগ্রহ করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এখান থেকে বছরে প্রায় ১৫ হাজার টন মিথেন সংগ্রহ করে ৮১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আরও প্রায় ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে।

এ ছাড়া পাইলট ভিত্তিতে স্থাপিত একটি এমআরএফ সেন্টারে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োগ্যাস, কম্পোস্ট, বায়োফুয়েল, ইকো-ব্রিকস, ব্ল্যাক সোলজার ফ্লাই (বিএসএফ) এবং সলিড রিফিউজড ফুয়েল (এসআরএফ) উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। এতে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে ডিএসসিসির প্রতিদিন উৎপাদিত পুরো বর্জ্য (প্রায় তিন হাজার ২০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টন) মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে নগরীর পরিচ্ছন্নতা বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন।

সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের কারিগরি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।