সাইবার সুরক্ষা মামলায় পাভেল গ্রেপ্তার, আছে মানবপাচার ও চাঁদাবাজির অভিযোগও

রাজধানীর পল্টন থানার চাঞ্চল্যকর 'সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬' মামলার এক নম্বর আসামি মো. কামরুল আহসান পাভেলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (১৪ জুন) র্যাব-১১ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে র্যাব-৩-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে র্যাব-৩ পাভেলকে পল্টন থানায় সোপর্দ করে।
এদিকে রাজধানীর পল্টন এলাকাকে কেন্দ্র করে মানবপাচার, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনলাইনে অপপ্রচারের অভিযোগে কামরুল আহসান পাভেল, পলি আক্তার লিজা, শাহজাহান, সোনিয়া আক্তার ও ফাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।
আদালতে দাখিল করা মামলার বাদী মোশাহেদ হাসান অভিযোগ করেন, বিদেশগামী কর্মী প্রেরণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র তার প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ধারাবাহিক হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারা এবং দণ্ডবিধির প্রতারণা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে পাঠানো ব্যক্তিদের নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে বাদীর কাছে অর্থ দাবি, হুমকি এবং সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ পরিশোধ না করলে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পরিবারের সদস্য এবং ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বিভিন্ন ভিডিও, পোস্ট ও সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে বাদীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তার ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদীর ভাষ্যমতে, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। আর্থিক দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেল এবং আরও মামলা করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তার ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় এর আগে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পেয়ে পরবর্তীতে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী। আদালতে দাখিল করা আবেদনে তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার আবেদন জানান।
নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার প্রেক্ষাপটে পূর্ববর্তী কয়েকটি মামলা, সমন ও বিচারিক আদেশের বিষয়ও আদালতের নজরে আনা হয়েছে। আদালত সংশ্লিষ্ট থানাকে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া তাদের অবস্থানও জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া কামরুল আহসান পাভেল পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ভারিপাশা গ্রামের মো. শামসুল হকের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় দায়ের হওয়া সাইবার সুরক্ষা আইনের একটি মামলা রয়েছে। ওই মামলায় তাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে। র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে।
