জাতীয়করণে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে আমার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৬ আসনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণ করা হবে। বিশেষ করে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ যাতে সবার আগে জাতীয়করণ করা হয়, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক তার বক্তব্যে জানান, নির্বাচনের পূর্বেই তিনি সব স্কুল প্রধানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন এবং ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও তার কথা হয়েছে। সরকার গঠনের পর এখন গুছিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শুধু মিরপুর বাংলা স্কুল নয়, বরং এই আসনের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ক্রমান্বয়ে জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, মিরপুর বাংলা স্কুলে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব নিশ্চিত করার কাজও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী মাঠের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীরা মাঠটি ব্যবহারের পাশাপাশি স্কুলের সময় শেষে স্থানীয় তরুণ ও যুবসমাজও যাতে সেখানে খেলাধুলা করতে পারে, সে জন্য ইতোমধ্যে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
তিনি শিক্ষার্থীদের আর্থিক দিকটি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি আহ্বান জানান। বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অসহায় ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর যাতে কোনো বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংবেদনশীল হওয়ার জন্য তিনি শিক্ষকদের অনুরোধ করেন।
আমিনুল হক বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে, তা বাস্তবায়নে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।
তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৬ আসনকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চাঁদাবাজের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কর্মপরিকল্পনা চলছে বলেও তিনি উপস্থিত সবাইকে অবহিত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল খোশনবীশ ও সভাপতি মইনুল হক মইনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।