logo

ধাক্কা দিলেই বিএনপি পড়ে যাবে না: আবদুস সালাম

ধাক্কা দিলেই বিএনপি পড়ে যাবে না: আবদুস সালাম
সাদেক হোসেন খোকার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা ধাক্কা দিয়ে বিএনপিকে ফেলে দেওয়া যাবে না। বিএনপি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে বিএনপির যে ভিত তৈরি হয়েছিল, তা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠেছে। আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল হিসেবেই আজ ঢাকা মহানগরীতে আমাদের দলের তরুণ ও যোগ্য নেতৃত্ব জয়লাভ করে আসছে। কেউ যদি মনে করেন একটু ধাক্কা দিলেই বিএনপি পড়ে যাবে, তবে তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছেন। বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

প্রতিপক্ষের প্রতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি করতে চাইলে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করুন। দেশের সংবিধানে ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস থাকলে আপনাদের আগামী পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ভোটের মাধ্যমেই কেবল সরকারের পরিবর্তন সম্ভব। পার্লামেন্টে বিরোধিতা করুন, কিন্তু বাইরে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন না।

ঢাকা মহানগরের রাজনীতিতে প্রয়াত নেতাদের অবদান স্মরণ করে বিএনপি নেতা সালাম বলেন, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের মতো নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকায় বিএনপি সুসংগঠিত শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কতটা জনপ্রিয় ছিলেন, তা তার মৃত্যুর পর জনগণের ঢল দেখেই প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে আমাদের দলের স্থায়ী কমিটি ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের জানাজায় সাধারণ মানুষের বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে বিএনপি দেশের জনগণের মূলধারার দল।

রাজধানীতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অসন্তোষ ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এখনও দলগতভাবে রাজপথে নামি নাই। তবে এর মানে এই নয় যে দলকে বা দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে একা পেয়ে যা ইচ্ছা তাই করা যাবে। দেশের কোটি কোটি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বিএনপির পাশে রয়েছে।

জ্বালানি ও গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুস সালাম বলেন, গত ১৭ বছর দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের দিকে নজর দেওয়া হয়নি, নতুন কূপ খনন করা হয়নি। যার মাশুল এখন দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নতুন নতুন গ্যাস ও বিদ্যুৎ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। কিছুদিন অপেক্ষা করলে এই সংকট কেটে যাবে।

স্মরণসভার আলোচনা শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকার ছেলে এমপি ইশরাক হোসেন, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।