৫০০ টাকার জন্য বৃদ্ধাকে হত্যায় অভিযুক্ত সেই তরুণ গ্রেপ্তার

যে তরুণকে নিজের নাতির মতো স্নেহ করতেন বৃদ্ধা নূরজাহান (৬০), মাত্র ৫০০ টাকা পাওনার জেরে সেই তরুণের হাতেই শেষ হয়েছে তার জীবন। ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মীরকান্দাপাড়া গ্রামে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনার মূল আসামি মো. রনি মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত নূরজাহান (৬০) ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার মীরকান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ৩০ জানুয়ারি নিজ বাড়ির রান্নাঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরদিন তার মেয়ে নূরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গতকাল শনিবার (২ মে) ভোররাত ৪টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালি থানার শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি মো. রনি মিয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করে। তিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি।
নিহতের মেয়ে নূরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা। শুরু হয় প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যনির্ভর অনুসন্ধান ২ মে ভোর রাতে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রনিকে। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং নিহত নূরজাহানকে ‘নানি’ বলে ডাকতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে রনি মিয়া নূরজাহানের কাছ থেকে ৫০০ টাকা ধার নেন। কিন্তু সেই সামান্য টাকার কারণে তাদের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ঘটনার দিন রাতে রনি নূরজাহানের বাড়িতে যান। প্রথমে স্বাভাবিক আলাপচারিতা চললেও একপর্যায়ে নূরজাহান তার পাওনা টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়।
এ ছাড়াও আরও বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ড হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রনি। পরে মসলা বাটার শিল দিয়ে নূরজাহানের মাথায় আঘাত করেন তিনি। বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মৃত্যু নিশ্চিত করতে একাধিকবার আঘাত করা হয়। এরপর মরদেহ খড় দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে রনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার কাছ থেকে নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাত্র ৫০০ টাকার জন্য একজন বৃদ্ধাকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। হত্যার পর আসামি স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিল। তবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
বর্তমানে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।