চট্টগ্রামে ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকায় ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেয়াললিখন নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ এনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রশিবির।
বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড় থেকে এই মিছিল বের করেন ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে দিয়ে পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলে ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম এবং জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আজিজুর রহমান আজাদ বলেন, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ধারাবাহিক নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের বারবার রাজপথে নামতে হয়েছে। কখনো ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে, কখনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের চক্রান্তের প্রতিবাদে, আবার কখনো নিষিদ্ধ সংগঠন ‘লীগ’-এর কর্মীদের পুনর্বাসনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধেও আমরা সোচ্চার থেকেছি।
তিনি বলেন, গতকাল চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাধারণ শিক্ষার্থী, সম্মানিত শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা যে ন্যাক্কারজনক ও বর্বর হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।
তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের এই সহিংস আচরণ নতুন কিছু নয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তারা ক্যাম্পাসগুলোতে গেস্টরুম ও গণরুমের মতো বড় ভাই অপসংস্কৃতি চালু করেছিল। ২০০১ সালেও তারা সাধারণ ছাত্রদের 'দলদাসে' পরিণত করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বুয়েট ছাত্রী সাবিকুন নাহার সনি হত্যাকাণ্ড এবং ২০০২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে ছাত্রীদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের কলঙ্কিত ইতিহাস তারা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে তৎকালীন শিবিরের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হামিদুর রহমান আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ছাত্রদলকে নিয়ন্ত্রণ না করলে সরকার পতনের আন্দোলন হবে। যার ফলে ১৯৯৬ সালে তারা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। আমরা আশা করি, ছাত্রশিবিরকে আবারও তেমন কোনো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে আপনারা বাধ্য করবেন না।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং মহানগর পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ শাখা সেক্রেটারি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) চট্টগ্রামের সরকারি সিটি ক্যাম্পাসে গ্রাফিতি লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গ্রাফিতিতে ‘ছাত্র’ শব্দ মুছে ‘গুপ্ত’ লিখে দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।