গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

গ্রাহকের অজান্তে তার নামে ইস্যু করা একটি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পাঁচ বছর ধরে আর্থিক লেনদেন চালিয়ে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম সারোয়ার হোসেন (৪০)। তিনি একসময় দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র রিলেশনশিপ অফিসার (কার্ড সেলস, রিটেইল ব্যাংকিং) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সিআইডির দাবি, গ্রাহকের বিশ্বাসের অপব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০১৭ সালে এক গ্রাহক নিজের নামে একটি ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করেন। পরে প্রয়োজন না থাকায় তিনি কার্ডটি ব্যবহার না করে ব্যাংকে ফেরত দেন।
তবে কার্ডটি ব্যাংকে জমা না দিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন নিজের কাছে রেখে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কার্ডটির সঙ্গে ভুয়া মোবাইল নম্বর ও ঠিকানা যুক্ত করেন, যাতে ওটিপিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তার কাছেই পৌঁছায়।
এরপর গ্রাহকের অজান্তে তিনি কার্ডটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতারণামূলক লেনদেন চালিয়ে যেতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ওই ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট ১৭ লাখ ৭০ হাজার ২১৩ টাকার লেনদেন করা হয়।
এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে পরিশোধ করা হলেও হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, মোট ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পরও সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৫ টাকা বকেয়া দেখানো হয়। ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
সিআইডি জানায়, ২০১৯ সালে ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পরও সারোয়ার হোসেন ওই কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন চালিয়ে যান।
সম্প্রতি ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদন সংগ্রহ করলে সেখানে তার নামে একটি ক্রেডিট দায়ের তথ্য দেখতে পান।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত ঋণ ও আর্থিক দায় সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞ ছিলেন। কারণ, তিনি কখনো ওই কার্ড ব্যবহার করেননি এবং কোনো ঋণও নেননি।
এ ঘটনায় সন্দেহ হলে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নজরে এলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়।
ব্যাংকের তদন্তে গ্রাহকের নামে পরিচালিত সন্দেহজনক লেনদেন ও কার্ড ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে। এরপর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব ধারা যথাক্রমে বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং জাল নথি ব্যবহারের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সিআইডি আরও জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ৮ জুন বিকেলে রাজধানীর গুলশানের কমার্শিয়াল কোভ ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) অঞ্চলের একটি দল তাঁকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির ভাষ্য, অভিযুক্তের ব্যাংকিং কার্যক্রম, অতীত লেনদেন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পশ্চিম) বিভাগ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।
