logo

জ্বালানির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে, আয়ের সঙ্গে নেই সামঞ্জস্য

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
জ্বালানির প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারে, আয়ের সঙ্গে নেই সামঞ্জস্য
কাঁচাবাজারের নিত্যপণ্য। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে সবজি, ডিম থেকে শুরু করে মাছ-মাংস প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে দিশেহারা হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর পলাশী কাঁচাবাজার বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি সবজির দামে। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি দাম ২০০ টাকায়। এ ছাড়া বেগুন ১৪০ টাকা, গাজর ১৩০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং করলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

একটু কম দামের সবজির মধ্যে আলু ৩০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ১৫০ টাকা এবং আদা ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য সবজির মধ্যে, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, কচুর লতি ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি পিচ লাউ ৮০ টাকা, চালকুমড়া ৫০ টাকা ও কচু ৮০ টাকা এবং হালিপ্রতি কাঁচা কলা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া লালশাক ৯০ টাকা এবং পুঁইশাক ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে ডিমের দামও বেশ চড়া। বর্তমানে প্রতি হালি লাল ডিম ৫৫ টাকা, সাদা ডিম ৫২ টাকা এবং দেশি হাঁসে ও মুরগির ডিমের ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে ডিমের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে আব্দুল খালেক ট্রেডার্সের বিক্রেতা কাউসার এশিয়া পোস্টকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিমের দামে।

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুরগির বাজারে দেশি মুরগি ৬০০ টাকা, সোনালি ৩২০ টাকা, লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মুরগি বিক্রেতা জাভেদ মুন্সি বলেন, বর্তমানে খামারগুলোতে উৎপাদন বেশি থাকায় ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা শিথিল রয়েছে। তবে উৎপাদন কমে গেলে জ্বালানি তেলের বাড়তি মূল্যের কারণে এর দামও অনেক বেড়ে যাবে।

মাছের বাজারেও নেই কোনো স্বস্তি। প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি শিং মাছ ১১৫০ টাকা এবং টেংরা ১০০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ইলিশের দাম আকারভেদে ১১০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত হাঁকছেন বিক্রেতারা। ভোজ্যতেলের মধ্যে ২ লিটার সয়াবিন তেল ৪০৮ টাকা এবং ১ লিটার ২০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পলাশী কাঁচাবাজারে বাজার করতে আসা লালবাগের বাসিন্দা মসলেম উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে তার হতাশার কথা জানান। তিনি বলেন, বাজারে এলে বুঝতে পারি না কী কিনব। গত সপ্তাহে যে সবজি কিনেছি, আজ তার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি চাচ্ছে। রোজগারের সঙ্গে বাজার দরের কোনো সামঞ্জস্য নেই।