হাজারীবাগে কুরিয়ার অফিসে হামলা ও লুটপাট, গ্রেপ্তার ১

রাজধানীর হাজারীবাগে ‘এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস’-এর ওয়্যারহাউজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে মাহির আহমেদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে এশিয়া পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন।
তিনি জানান, গত রাতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। পরে হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত মাহির আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলায় অংশ নেওয়া অন্যান্যদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
পুলিশ ও ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হাজারীবাগের শিকদার মেডিকেলের পেছনে মেন্ডী ডেন্টাল রোডে ২৩টি মোটরসাইকেলে হেলমেট ও মাস্ক পরা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। মাত্র ১৮ মিনিটের তাণ্ডবে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে তারা সটকে পড়ে।
হামলাকারীরা শুরুতেই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলে এবং সার্ভার রুম থেকে ফুটেজ ধারণকারী ডিভিআর (DVR) নিয়ে যায়। এ সময় ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ বিপুল মূল্যের সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। কুরিয়ার কর্তৃপক্ষের দাবি, এই হামলায় তাদের অন্তত ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী জানান, সন্ত্রাসীরা সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে তাণ্ডব চালায় এবং মালামাল লুট করে চলে যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যায়। অন্য এক কর্মীর দাবি, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
এদিকে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী কর্তৃপক্ষের। তাদের অভিযোগ, চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের লোক পরিচয়ে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সিকদার গ্রুপের কাছ থেকে মাসিক চার লাখ টাকায় প্লটটি ভাড়া নিয়ে কুরিয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। হামলাকারীরা মূলত ওই ভাড়ার টাকা তাদের দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ডিএমপির রমনা বিভাগের পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিসিটিভি ফুটেজ উধাও করা হলেও আশপাশের ভবনের ক্যামেরা থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্তের কাজ চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
